খুঁজুন
                               
সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ মারা গেছেন

হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাভোগ করছিলেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা যান তিনি। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ। তিনি জানান, অসুস্থতাবোধ করায় শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিকেল চারটায় তাকে ঢামেকের ছয় তলার ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, তানভীর মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্টসহ নানান জটিল সমস্য ছিল তার।
অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তানভীর মাহমুদ এবং তার স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ ৯ জনকে গত বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার প্রথম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেম এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় ২০১২ সালে হলমার্ক গ্রুপের মালিক, কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়। এসব মামলার একটিতে তানভীরসহ বাকিরা সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।

খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে তাঁকে লন্ডনে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছেন। মাহাদী আমীন লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাঁর চিকিৎসা পরিচালিত হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে। লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। মায়ের চিকিৎসায় যেন কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না থাকে, সে জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ তদারকি করছেন তারেক রহমান। হাসপাতালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবর নিতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ভিড় করলেও ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে কাউকে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন মাহাদী আমীন। তিনি বলেন, দূর থেকেই মানুষ ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মাহাদী আমীন আরও জানান, খালেদা জিয়ার কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলে তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে লন্ডনের সেই হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাঁদের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের শুরুতে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়া উল্লেখযোগ্য উন্নতি লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসজ্জিত বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার উদ্যোগও চলছে।

কচুয়ায় বিস্তীর্ণ বিলের মাঝখানে প্রবাসীর ব্যতিক্রমী খামার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
কচুয়ায় বিস্তীর্ণ বিলের মাঝখানে প্রবাসীর ব্যতিক্রমী খামার

মালয়েশিয়ায় বহু বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে নিজের এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন আবু নাছির মিয়াজী। সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে ‘আল হামিদ এগ্রো ফার্ম’-এ। কচুয়া উপজেলার ৮ নম্বর কাদলা ইউনিয়নের কাদলা গ্রামের বিলের মাঝখানে কচুয়া সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বিস্তীর্ণ প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠেছে এই ব্যতিক্রমী মিশ্র খামার। উদ্যোক্তা আবু নাছির মিয়াজী বলেন, দেশে ফিরে ভেবেছিলাম এমন কিছু করবো, যাতে আমার এলাকার মানুষ কাজ পায়। বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা নারিকেল ও সুপারি গাছ এখন অনেকটাই বড়ো হয়েছে। তিনি বলেন, গাড়ল, হাঁস, মাছ-*সব মিলিয়ে একটি বড়ো এবং আধুনিক খামার গড়ে তুলতে চাই। বর্তমানে খামারে ১০-১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। খাবার সরবরাহ, মাছের ট্যাংকের তদারকি, গাছের পরিচর্যা–সব কিছুই চলে নিয়মমাফিক।
ফার্মের ম্যানেজার বশির উল্যাহ রোকন বলেন, মিয়াজীর পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে খামারটি এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এলাকার কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যেই তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাওকাত হোসেন সুমন বলেন, কচুয়া উপজেলায় প্রথমবারের মতো গাড়ল পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন আবু নাছির। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। তাকে সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর তিন বছরের ব্যবধানে আল হামিদ এগ্রো ফার্মে যুক্ত হয়েছে নানা সম্ভাবনাময় উৎপাদন। ফার্মে বর্তমানে রয়েছে শতাধিক গাড়ল, প্রায় ২ হাজারেরও বেশি হাঁস, ভেড়া প্রায় ১০০টি, ছাগল, দুটি পুকুরে বিভিন্ন জাতের মাছ এবং বিদেশি প্রজাতির নারিকেল ও সুপারি গাছ। এ বৈচিত্র্যপূর্ণ চাষাবাদ ও পশুপালনের কারণে খামারটি এখন এলাকাবাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রতিদিনই অনেকে খামারটি দেখতে আসেন। প্রবাস থেকে ফিরে নিজ এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যই ছিলো আবু নাসিরের মূল অনুপ্রেরণা। গাড়ল পালন এখন পুরো কাদলা এলাকায় আলোচনার বিষয়। আগের ভেড়ার জায়গা দখল করে নিয়েছে গাড়ল। আকারে বড়ো, মাংস উৎপাদন বেশি, দ্রুত বংশবৃদ্ধি–এসব কারণে গাড়ল পালনকে ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তা।

সবাই মিলে নিরাপদের সম্প্রীতির চাঁদপুর গড়তে চাই : জেলা প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
সবাই মিলে নিরাপদের সম্প্রীতির চাঁদপুর গড়তে চাই : জেলা প্রশাসক

hdr

চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সাথে চাঁদপুর জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পরিচিতি, মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন।
সভার শুরুতে নবাগত জেলা প্রশাসক চাঁদপুর শহর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার ওপর নিজের উদ্যোগ থেকে সীমিত সময়ের মধ্যে তৈরি করা একটি ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন। এ ডকুমেন্টারিতে বাদপড়া জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা তুলে ধরে এর সমাধানের উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসককে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি ডাকাতিয়া নদীর দূষিত পানি চাঁদপুর পৌরসভা উত্তোলন করে সরবরাহ করছে, যাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে বলে জানান ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ মাস্টার, ড্যাব চাঁদপুর জেলা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন খান বাবুল, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুর রহমান, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা, জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির অ্যাড. মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, নাগরিক ঐক্য জেলা সভাপতি আবু তাহের মাস্টার, সুজন জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মোশারেফ হোসেন, জেলা দুর্নীতি বিরোধী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কাজী হাশেম, জামায়াত পৌর আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খান, ইসলামী আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদ সানি, খেলাফতের তোফায়েল আহমেদ, গণফোরামের হাজী আশরাফ সরকার, এনসিপি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মাহবুব আলম, গণঅধিকার পরিষদের জেলা আহ্বায়ক কাজী রাসেল, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. আবুল বাশার, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, পিপি অ্যাড. কুহিনূর বেগম, উইমেনস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরা আক্তার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের শরীফ চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জসিম মেহেদী, চাঁদপুর জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আলম বাবু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশিদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, জেলা জাসাস সভাপতি কাজী মাইনুল হক জীবনসহ অন্যরা।
বক্তারা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল চাঁদপুর গঠনে নানা ধরনের মত প্রকাশ করেন এবং বলেন, উন্নত চাঁদপুর গঠনে যানজট নিরসন, দুর্নীতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধের বিকল্প নেই।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, সামনে নির্বাচন। আপনি, আমি ও প্রার্থীদের চেয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা ভোট দিবেন সেই ভোটার। ভোটাররা যেনো নির্বিঘ্নে সুন্দর পরিবেশে ভোট প্রদান করতে পারে সেই ক্ষেত্র তৈরি করা হবে।একজন ভোটার যেনো গর্ব করে বলতে পারে, আমি একজন সেবককে ভোট দিয়েছি। আমার দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচনে পবিত্রতার সাথে ঈমানী দায়িত্ব পালন করা।
তিনি বলেন, আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমরা সবাই মিলে নিরাপদের সম্প্রীতির চাঁদপুর গড়তে চাই। যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক সম্প্রীতি অটুট থাকবে।
নবাগত জেলা প্রশাসক ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে চাঁদপুরকে আরো এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সামনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে যেনো শেষ হয় সে লক্ষ্য নিয়ে একটি সক্রিয় ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।