খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

কোন পথে বিএনপি?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ২:০০ অপরাহ্ণ
কোন পথে বিএনপি?

বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান পর্বটি নিঃসন্দেহে একটি সন্ধিক্ষণ। রাষ্ট্রক্ষমতার চিরচেনা খেলায় এবার যুক্ত হয়েছে সংস্কারের প্রস্তাব,জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ,আর তার মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা। এই ন্যারেটিভের কেন্দ্রে বিরোধী দল বিএনপি। দলটির জন্য এটি যেন দুই ধারালো ধারের তরবারি। কোনো সিদ্ধান্তই পুরোপুরি নিরাপদ নয়; বরং উভয় পথেই রয়েছে সংকট ও সম্ভাবনার দ্বৈত দরজা।
ঐকমত্য কমিশনের কিছু সুপারিশ বিএনপির কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কেননা এগুলো তাদের ঘোষিত আন্দোলন-রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করে। একটি দল যখন দীর্ঘদিন ধরে দাবি তোলে -‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হলে নির্বাচন হবে না’,তখন হঠাৎ করে সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভেতরেই সংস্কার আলোচনায় টেনে আনা রাজনৈতিকভাবে কঠিনই বটে। এখানে বিএনপির এখনকার অবস্থান অনেকটা এমন: সুপারিশগুলোর প্রতি দরজা খুলে দিলে নিজস্ব রাজনৈতিক বিবৃতির ধার কমে যেতে পারে, আর পুরোপুরি ঠেলে দিলে ‘সংস্কারবিরোধী’,’অসহযোগী’ তকমা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ইমেজ’একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপিকে ‘নেতিবাচক রাজনীতি’ বা বি- রাজনীতির কাঠামোতে ফেলতে চেয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব যদি বিএনপি সোজাসুজি প্রত্যাখ্যান করে,তাহলে সেই ইমেজ ফেরে আসার সুযোগ আরও দৃঢ় হতে পারে। অন্যদিকে গ্রহণ করলেও প্রশ্ন -তাহলে গত দেড় দশকের আন্দোলন এবং তার রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া কোথায় দাঁড়াবে?
এখানেই বিএনপির বাস্তবতা ও কৌশলের জটিল যোগসূত্র।
অনেকে বলছেন -সময়ের চাকা বদলেছে। গণআন্দোলনের জোয়ারের অপেক্ষা,কিংবা নির্বাচনী বয়কট-কেন্দ্রিক কৌশল-এগুলো অতীতে যতটা কার্যকর ছিল,বর্তমান বাস্তবতায় তা ততটা নিশ্চিত নয়। সমাজ-অর্থনীতি-প্রশাসনিক কাঠামো – সবকিছুতেই ক্ষমতার স্থায়িত্বের কৌশল আরও পরিপূর্ণ হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সামনে থাকা পথ সংকীর্ণ। এই সংকীর্ণ পথেই বিএনপিকে এখন হাঁটতে হচ্ছে।
এখানে আরেকটি বিষয় খেয়ালযোগ্য -সংস্কার প্রসঙ্গ। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনা নতুন নয়,কিন্তু তা কখনো বাস্তব রূপ পায়নি। ক্ষমতার পালাবদলে প্রতিপক্ষের জন্য কাঠামো বদলানোর চেষ্টা,আর নিজের ক্ষমতার সময় সেই কাঠামো রক্ষার প্রবণতা -এটাই গত তিন দশকের ধারা। কমিশনের প্রস্তাব তাই শুধু নীতিগত আলোচনা নয়; এটি ক্ষমতার ভবিষ্যৎ বণ্টনের নতুন আখ্যান। এই আখ্যানের বাইরে থাকলে কেউ একদিন অপরিহার্যতার বাইরে চলে যেতে পারে -এই ভয় বিএনপি অনুভব করছে বলেই মনে হয়।
তবে প্রশ্ন হলো -জনগণের অবস্থান কোথায়? রাজনীতি যদি জনতাভিত্তিক শক্তির খেলা হয়,তাহলে বিএনপিকে ভাবতে হবে ভোটার-সমর্থক-সমাজের মধ্যবিত্ত অংশগুলো কী ভাবছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা,অর্থনৈতিক চাপ,কর্মসংকট -এই সময়ে সাধারণ মানুষ স্থিতি চায়। তারা পরিবর্তন চায়,কিন্তু পরিবর্তন যেন অস্থিরতার সমার্থক না হয়। বিএনপি যদি পরিবর্তনের বয়ানকে স্থিতির বয়ানের পাশে দাঁড় করাতে না পারে,তবে তাদের বার্তা জনমনে স্পষ্টভাবে পৌঁছবে না।
একই সাথে দলটির ভেতর যে কৌশলগত ভিন্নমত রয়েছে,তা গঠনতান্ত্রিক দুর্বলতার ইঙ্গিতও দেয়। সুপারিশ গ্রহণ-বর্জনের প্রশ্ন শুধু আদর্শ নয় -দলটির নেতৃত্ব,ভবিষ্যৎ প্রজন্ম,এবং কেন্দ্র-বাহিরের সংগঠনের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের এখানেই ভূমিকা -আবেগ নয়,বাস্তবতার সঙ্গে নীতি-আদর্শের সঠিক সমন্বয়।
তাহলে কী হওয়া উচিত বিএনপির পথ? প্রথমত,যেকোনো রাজনৈতিক দলকে প্রমাণ করতে হয় -তারা শুধু ক্ষমতার জন্য নয়,রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প ভিশন রাখে। বিএনপি যদি সংস্কার ইস্যুকে সরাসরি অস্বীকার না করে বরং নিজের সংস্কার-রূপকল্প তুলে ধরে,তা হলে তা পরিণত রাজনীতির পরিচয় হবে। দ্বিতীয়ত,জনগণের দিকে তাকানো জরুরি। তাঁদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি,সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রশ্নে বিকল্প ব্যাখ্যা দেওয়া – এগুলো আরও জোরদার করা উচিত। তৃতীয়ত,দলীয় অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করা দরকার। বিভাজন ও সন্দেহ রাজনীতিকে দুর্বল করে।
বাংলাদেশ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে,যখন রাজনৈতিক বলবৎ সত্যগুলো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের শক্ত অবস্থান,প্রশাসনিক সক্ষমতা,এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা -সব মিলিয়ে এই মুহূর্ত কঠিন। কিন্তু সংকটে সুযোগ থাকে। বিএনপি যদি কৌশলগত ধৈর্য ও সৃজনশীল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে পারে,তবে তার সামনে পথ আছে। আর যদি আবার পুরোনো দ্বিধা ও প্রত্যাশাহীন পথে হাঁটে -তাহলে ইতিহাসের মোড় হয়তো অন্যদিকে ঘুরে যাবে,বিএনপিকে প্রান্তসীমায় রেখে।
রাজনীতি আসলে সময়ের সঙ্গে তাল মিলাতে পারার শিল্প। আজ সেই শিল্পের পরীক্ষায় বিএনপি দাঁড়িয়ে। উত্তীর্ণ হতে হলে শুধু স্লোগান ন-দূরদৃষ্টি,আত্মসমালোচনা,এবং জনগণের সঙ্গে গভীর সংযোগ-এই তিনটির সমন্বয়ই তাদের প্রকৃত অস্ত্র। এখন দেখার পালা -তারা সেই অস্ত্র ঘষে-মেজে নেবে,নাকি তাকেই ভুলে যাবে ইতিহাসের করিডোরে।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।