খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আগস্ট মাসেই হতে পারে জেলা প্রশাসক নিয়োগ

রূপসী বাংলা নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আগস্ট মাসেই হতে পারে জেলা প্রশাসক নিয়োগ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েই প্রশাসনে একের পর এক সমালোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। শুরুতে ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। ডিসি হতে না পেরে বেশ কজন কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারামারিতেও জড়ান। ডিসি পদে দায়িত্ব চালিয়ে ২১ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হওয়ার সাড়ে চার মাস পরও মাঠ প্রশাসনে রয়ে গেছেন। নানা সমীকরণে তাদের তুলে এনে নতুন ডিসি নিয়োগ দিতে পারছে না সরকার। অবশ্য চলতি আগস্টের মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে যুগ্ম সচিবদের প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। আর এতে করে ডিসি নিয়োগের ‘প্যাঁচ’ খুলবে বলে আশা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছে, ডিসি নিয়োগে জটিলতা তৈরির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সরকারের উপদেষ্টারা তাদের পছন্দের কর্মকর্তাদের নাম প্রস্তাব করছেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের একটি তালিকা রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিবেরও পছন্দের তালিকায় আছে কিছু নাম। এসবের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের পৃথক পৃথক পছন্দও আছে। ফলে ডিসি পদে নিয়োগপ্রত্যাশী কর্মকর্তার তালিকা বেশ লম্বা হয়ে গেছে। এ তালিকা ছোট করতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় ধরনের প্যাঁচ লেগে গেছে। আর এ প্যাঁচ খুলতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার ভয়েই সময় নিচ্ছে সরকার। তবে চলতি মাস থেকে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাথায় রেখেই নতুন ডিসিদের মাঠে পাঠাবে সরকার। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে আগামী বছরের রমজান মাসের আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে বলে এর আগে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 

বিতর্কের ভয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১০৮ কর্মকর্তার ফিটলিস্ট তৈরি করা হয়। যেখান থেকে ৬১ জেলায় ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। অনেকে নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তারা মারামারি ও হাতাহাতি পর্যন্ত করেছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়। আবার অনেকে বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভালো ভালো দপ্তর-সংস্থায় চাকরি করেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর ডিসি পদ বাগিয়ে নেন। যাদের অনেকেই পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। তবুও তারা নতুন সরকার ও প্রশাসনে ডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই এবার বিতর্ক এড়াতে ডিসি নিয়োগে সরকার অতিরিক্ত সতর্ক রয়েছে। চলছে নিবিড় যাচাই-বাছাই। অর্থাৎ আওয়ামী সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তাকে ডিসি করবে না সরকার। কেউ ছলচাতুরী বা তথ্য গোপন করে ডিসি হলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ‘ভালো’ হবে না।
এদিকে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যার অংশ হিসেবে ছয় ধাপে বিসিএস প্রশাসন ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। যদিও কতজনকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, সর্বশেষ সাক্ষাৎকারগুলো থেকে অর্ধশতের কিছু বেশি কর্মকর্তাকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের ফিটলিস্টের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
ভিন্ন ভিন্ন ‘চাওয়ার’ কারণেই জটিলতা : জনপ্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১২ কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ব্যাচের ২৬ জনের মধ্যে ২১ জন গত ২০ মার্চ পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হন। ডিসি পদে উপসচিবরাই দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতির পর যুগ্ম সচিবদের মাঠ প্রশাসন থেকে তুলে নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য দপ্তর বা সংস্থায় পদায়ন করা হয়। অথচ পদোন্নতির সাড়ে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এই ২১ যুগ্ম সচিবকে এখনো জেলা প্রশাসন থেকে তুলে আনতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কারণ তাদের ছেড়ে আসা জেলাগুলোতে যাদের পাঠানো হবে সেই ২১ নতুন ডিসির নাম চূড়ান্ত করা যায়নি, যা বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা বলেই মনে করেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। নিয়োগ নিয়ে জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ভিন্ন ভিন্ন চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগসূত্র জানায়, চলতি মাসে ২১ যুগ্ম সচিবকে জেলা প্রশাসন থেকে তুলে আনার পর ২৫ ও ২৭ ব্যাচ থেকেই নতুন ডিসি নিয়োগ করা হবে। এ ছাড়াও নির্বাচনের আগে আরও বেশ কয়েকজন ডিসিকে তুলে আনবে সরকার। সেখানে নতুন করে ২৮তম ব্যাচ থেকে ডিসি পদায়ন দেওয়া হতে পারে। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং নিয়োগের আগে আরও ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক বলেন, ‘ডিসি নিয়োগের বিষয়টি জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির ওপর নির্ভর করছে। তারাই বলতে পারবে কবে নাগাদ নিয়োগ হবে। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানি।’
দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, সরকার জনপ্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ করেছে। এ কমিটি গঠনের পরই নিয়োগে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কমিটির মতের সঙ্গে অন্য উপদেষ্টাদের তদবিরের অমিল দেখা দিচ্ছে। ফলে নিয়োগ-বদলিতে হচ্ছে বিলম্ব।
শীর্ষ কর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ, এসব কর্মকর্তা এক থেকে দেড় দশক আগে অবসরে গেছেন। বর্তমান প্রশাসনের কাজকর্মের ধরন অনেক পাল্টেছে। সরকারের প্রতিটি দপ্তর এখন ডিজিটালাইজড। কিন্তু প্রশাসনের ‘শীর্ষ মুরুব্বিরা’ এই ডিজিটাল কার্যক্রমে অভ্যস্ত নন। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেও সাহস পান না। ছোট ছোট সিদ্ধান্তের জন্যও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার সাচিবিক কর্মকর্তারাও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারছেন না। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রশাসনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। প্রশাসন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ও ভাঙচুর তাই প্রমাণ করেছে। আর একটি বিশেষ ব্যাচের (৮২ ব্যাচ) কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে তাদের হাতে প্রশাসন তুলে দিয়ে ভুল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা তাদের কাজের দক্ষতা দেখাতে পারছেন না। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমানের বিরুদ্ধেই কর্মকর্তাদের অভিযোগ বেশি। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণিও নিজেকে প্রমাণ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে নিজের ‘অযোগ্যতার’ প্রমাণ দিয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে বদলি হয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের।
একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি ঠিকমতো দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারত, তাহলে সব কিছুর জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকার দরকার হতো না; কিন্তু তারা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। শুধু ডিসি নিয়োগ নয়, বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ চলছে ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে। উপদেষ্টা ও সচিবদের ‘ঠেলাঠেলিতে’ সচিব পদগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। আগামীতে ‘বুড়ো’ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, চুক্তিভিত্তিক সচিবদের সঙ্গে অধস্তন কর্মকর্তাদের সম্পর্ক সচরাচর ভালো হয় না। কেউ কাউকে ‘ওউন’ করেন না। এমন সম্পর্ক প্রশাসনকে আরও দুর্বলতার দিকে নিয়ে যাবে।
সাবেক সচিব ও প্রশাসনবিষয়ক বিশ্লেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘সিভিল ব্যুরোক্রেসিকে (বেসামরিক প্রশাসন) বলা হয় সরকারের খুঁটি। তাদের ওপর আস্থা ও ভরসা রেখেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। একটি সৎ, দক্ষ, পেশাজীবী আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না; কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্ভাগ্য তারা সেরকম সিভিল ব্যুরোক্রেসি পাননি। তারা পেয়েছেন, দুমড়েমুচড়ে পড়া একটি আমলাতন্ত্র। এ আমলাতন্ত্রের ওপর ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সত্যিই অসাধ্য।’
প্রশাসনের নানা দুর্বলতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে আউয়াল মজুমদার আরও বলেন, ‘১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১-এর অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এমন দুরবস্থায় পড়তে হয়নি।’ তবে এখনো প্রশাসন ঠিক করা সম্ভব বলে মনে করেন সাবেক এই সচিব।

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।