খুঁজুন
                               
, ,

আগস্ট মাসেই হতে পারে জেলা প্রশাসক নিয়োগ

রূপসী বাংলা নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আগস্ট মাসেই হতে পারে জেলা প্রশাসক নিয়োগ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েই প্রশাসনে একের পর এক সমালোচিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে। শুরুতে ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে। ডিসি হতে না পেরে বেশ কজন কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারামারিতেও জড়ান। ডিসি পদে দায়িত্ব চালিয়ে ২১ কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হওয়ার সাড়ে চার মাস পরও মাঠ প্রশাসনে রয়ে গেছেন। নানা সমীকরণে তাদের তুলে এনে নতুন ডিসি নিয়োগ দিতে পারছে না সরকার। অবশ্য চলতি আগস্টের মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে যুগ্ম সচিবদের প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। আর এতে করে ডিসি নিয়োগের ‘প্যাঁচ’ খুলবে বলে আশা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছে, ডিসি নিয়োগে জটিলতা তৈরির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সরকারের উপদেষ্টারা তাদের পছন্দের কর্মকর্তাদের নাম প্রস্তাব করছেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবের একটি তালিকা রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিবেরও পছন্দের তালিকায় আছে কিছু নাম। এসবের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের পৃথক পৃথক পছন্দও আছে। ফলে ডিসি পদে নিয়োগপ্রত্যাশী কর্মকর্তার তালিকা বেশ লম্বা হয়ে গেছে। এ তালিকা ছোট করতে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় ধরনের প্যাঁচ লেগে গেছে। আর এ প্যাঁচ খুলতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার ভয়েই সময় নিচ্ছে সরকার। তবে চলতি মাস থেকে নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাথায় রেখেই নতুন ডিসিদের মাঠে পাঠাবে সরকার। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে আগামী বছরের রমজান মাসের আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে বলে এর আগে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 

বিতর্কের ভয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১০৮ কর্মকর্তার ফিটলিস্ট তৈরি করা হয়। যেখান থেকে ৬১ জেলায় ডিসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগ ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। অনেকে নিজেদের ‘বঞ্চিত’ দাবি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। তারা মারামারি ও হাতাহাতি পর্যন্ত করেছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়। আবার অনেকে বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ভালো ভালো দপ্তর-সংস্থায় চাকরি করেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর ডিসি পদ বাগিয়ে নেন। যাদের অনেকেই পতিত আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলেন। তবুও তারা নতুন সরকার ও প্রশাসনে ডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। তাই এবার বিতর্ক এড়াতে ডিসি নিয়োগে সরকার অতিরিক্ত সতর্ক রয়েছে। চলছে নিবিড় যাচাই-বাছাই। অর্থাৎ আওয়ামী সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তাকে ডিসি করবে না সরকার। কেউ ছলচাতুরী বা তথ্য গোপন করে ডিসি হলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ‘ভালো’ হবে না।
এদিকে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন ফিটলিস্ট তৈরির কাজ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যার অংশ হিসেবে ছয় ধাপে বিসিএস প্রশাসন ২৫ ও ২৭তম ব্যাচের ২৬৯ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। যদিও কতজনকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, সর্বশেষ সাক্ষাৎকারগুলো থেকে অর্ধশতের কিছু বেশি কর্মকর্তাকে ফিটলিস্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের ফিটলিস্টের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
ভিন্ন ভিন্ন ‘চাওয়ার’ কারণেই জটিলতা : জনপ্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২৪তম ব্যাচের ২৬ জন, ২৫তম ব্যাচের ২৫ জন এবং ২৭তম ব্যাচের ১২ কর্মকর্তা ডিসির দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ব্যাচের ২৬ জনের মধ্যে ২১ জন গত ২০ মার্চ পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হন। ডিসি পদে উপসচিবরাই দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতির পর যুগ্ম সচিবদের মাঠ প্রশাসন থেকে তুলে নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও অন্যান্য দপ্তর বা সংস্থায় পদায়ন করা হয়। অথচ পদোন্নতির সাড়ে ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এই ২১ যুগ্ম সচিবকে এখনো জেলা প্রশাসন থেকে তুলে আনতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কারণ তাদের ছেড়ে আসা জেলাগুলোতে যাদের পাঠানো হবে সেই ২১ নতুন ডিসির নাম চূড়ান্ত করা যায়নি, যা বর্তমান প্রশাসনের ব্যর্থতা বলেই মনে করেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। নিয়োগ নিয়ে জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ভিন্ন ভিন্ন চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগসূত্র জানায়, চলতি মাসে ২১ যুগ্ম সচিবকে জেলা প্রশাসন থেকে তুলে আনার পর ২৫ ও ২৭ ব্যাচ থেকেই নতুন ডিসি নিয়োগ করা হবে। এ ছাড়াও নির্বাচনের আগে আরও বেশ কয়েকজন ডিসিকে তুলে আনবে সরকার। সেখানে নতুন করে ২৮তম ব্যাচ থেকে ডিসি পদায়ন দেওয়া হতে পারে। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং নিয়োগের আগে আরও ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক বলেন, ‘ডিসি নিয়োগের বিষয়টি জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির ওপর নির্ভর করছে। তারাই বলতে পারবে কবে নাগাদ নিয়োগ হবে। তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানি।’
দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, সরকার জনপ্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ যুগ্ম সচিব ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য চারজন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবকে নিয়ে ‘জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটি’ করেছে। এ কমিটি গঠনের পরই নিয়োগে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কমিটির মতের সঙ্গে অন্য উপদেষ্টাদের তদবিরের অমিল দেখা দিচ্ছে। ফলে নিয়োগ-বদলিতে হচ্ছে বিলম্ব।
শীর্ষ কর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ, এসব কর্মকর্তা এক থেকে দেড় দশক আগে অবসরে গেছেন। বর্তমান প্রশাসনের কাজকর্মের ধরন অনেক পাল্টেছে। সরকারের প্রতিটি দপ্তর এখন ডিজিটালাইজড। কিন্তু প্রশাসনের ‘শীর্ষ মুরুব্বিরা’ এই ডিজিটাল কার্যক্রমে অভ্যস্ত নন। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেও সাহস পান না। ছোট ছোট সিদ্ধান্তের জন্যও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আবার প্রধান উপদেষ্টার সাচিবিক কর্মকর্তারাও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারছেন না। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রশাসনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। প্রশাসন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে। সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সচিবালয়ে আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ও ভাঙচুর তাই প্রমাণ করেছে। আর একটি বিশেষ ব্যাচের (৮২ ব্যাচ) কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে তাদের হাতে প্রশাসন তুলে দিয়ে ভুল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তারা তাদের কাজের দক্ষতা দেখাতে পারছেন না। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস-উর রহমানের বিরুদ্ধেই কর্মকর্তাদের অভিযোগ বেশি। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণিও নিজেকে প্রমাণ করতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে নিজের ‘অযোগ্যতার’ প্রমাণ দিয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে বদলি হয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের।
একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি ঠিকমতো দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারত, তাহলে সব কিছুর জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে তাকিয়ে থাকার দরকার হতো না; কিন্তু তারা নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। শুধু ডিসি নিয়োগ নয়, বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ চলছে ভারপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে। উপদেষ্টা ও সচিবদের ‘ঠেলাঠেলিতে’ সচিব পদগুলো পূরণ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। আগামীতে ‘বুড়ো’ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, চুক্তিভিত্তিক সচিবদের সঙ্গে অধস্তন কর্মকর্তাদের সম্পর্ক সচরাচর ভালো হয় না। কেউ কাউকে ‘ওউন’ করেন না। এমন সম্পর্ক প্রশাসনকে আরও দুর্বলতার দিকে নিয়ে যাবে।
সাবেক সচিব ও প্রশাসনবিষয়ক বিশ্লেষক এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘সিভিল ব্যুরোক্রেসিকে (বেসামরিক প্রশাসন) বলা হয় সরকারের খুঁটি। তাদের ওপর আস্থা ও ভরসা রেখেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। একটি সৎ, দক্ষ, পেশাজীবী আমলাতন্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না; কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্ভাগ্য তারা সেরকম সিভিল ব্যুরোক্রেসি পাননি। তারা পেয়েছেন, দুমড়েমুচড়ে পড়া একটি আমলাতন্ত্র। এ আমলাতন্ত্রের ওপর ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সত্যিই অসাধ্য।’
প্রশাসনের নানা দুর্বলতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে আউয়াল মজুমদার আরও বলেন, ‘১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১-এর অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এমন দুরবস্থায় পড়তে হয়নি।’ তবে এখনো প্রশাসন ঠিক করা সম্ভব বলে মনে করেন সাবেক এই সচিব।

সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চাঁদপুরের চার লেখক

ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এ যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কাদের পলাশসহ চার লেখক। আগামী ১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর ছয় দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১৪ জন কবি ও লেখক অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেবেন। এতে বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া চাঁদপুরের অন্য তিন লেখক হলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, কবি ও লেখক নুরুন্নাহার মুন্নি এবং কবি ও সংগঠক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনে চাঁদপুরের চার লেখকের অংশগ্রহণকে জেলার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি চাঁদপুরের সাহিত্যচর্চা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক লেখক ও সাংবাদিক কাদের পলাশ বলেন, সার্ক সাহিত্য সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কবি-লেখকদের সঙ্গে ভাববিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সাহিত্যিক সম্পর্ক জোরদার হবে। চাঁদপুরের লেখক হিসেবে এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আমরা আমাদের জেলার সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, এ আয়োজন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যিকদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
সাজেকে আটকে পড়া সব পর্যটক নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছেন: এসপি

রাঙামাটির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মুখে আটকে পড়া প্রায় দুই হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের কঠোর পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকরা। তবে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের ডাকা অবরোধের কারণে মাঝপথে উজো বাজারসহ কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বাধার মুখে পড়েন তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের বহর নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বারবার এমন অবরোধের ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং সাধারণ মানুষের জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।