খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত পাকিস্তান

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, পাকিস্তান ও ইরান একে অপরের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়। এর ১৭ মাস পর ইরানে ইসরাইলের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল পাকিস্তান। এই হামলার ফলে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ইসলামাবাদের উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।
১৩ জুন ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে একাধিক ইরানি জেনারেল এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীকে হত্যা করার পর, পাকিস্তান ইসরাইলি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়। এমনকি ইসলামাবাদ ইসরাইলি হামলাকে ইরানের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং এগুলোকে প্রকাশ্য উস্কানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
১৩ জুন ইরানে ইসরাইলের হামলার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা, অবিলম্বে এই আগ্রাসন বন্ধ করা এবং আক্রমণকারীকে তার কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করা।’
ইরানের উপর ইসরাইলি আক্রমণ এবং তেহরানের পাল্টা হামলা যখন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে, তখন বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত ইসলামাবাদে আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে, যার মূলে রয়েছে তেহরানের সাথে তার জটিল সম্পর্ক এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বিমান প্রভাব বিস্তার নিয়ে আরও বেশি অস্বস্তি।
ইরান-ইসরাইলি সংঘর্ষে মানুষের প্রাণহানি ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের উপর ইসরাইলের হামলায় ইতিমধ্যেই ২২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত এক হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রতিশোধ হিসেবে, ইরান ইসরাইলি ভূখণ্ডে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান, যার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান হয়ে ইরানের সাথে ৯০৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। একই সাথে ১৫ জুন থেকে বেলুচিস্তানে পাঁচটি সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ৫০০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিক, ইরান থেকে ফিরে এসেছেন।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত কার্যকরভাবে সিল করার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ।  মে মাসে ভারতের সাথে পাকিস্তানের সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের সময়ও ইরান সতর্কতার সাথে পক্ষ নেয়া এড়িয়ে চলে। সোমবার, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সংসদে ভাষণ দেন। পাকিস্তান ইরানের সাথে কীভাবে কথা বলছে তার উপর জোর দিয়ে পরামর্শ দেন, ইসলামাবাদ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক শত্রুতা বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করতে ইচ্ছুক।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল বেলুচিস্তানের সম্ভাব্য পরিণতি, যা একটি সম্পদ সমৃদ্ধ কিন্তু অশান্ত প্রদেশ। তেল, গ্যাস, কয়লা, সোনা এবং তামা সমৃদ্ধ, বেলুচিস্তান আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ছোট প্রদেশ, যেখানে প্রায় দেড় কোটি লোক বাস করে।
১৯৪৭ সাল থেকে, বেলুচিস্তানে কমপক্ষে পাঁচটি বিদ্রোহ হয়েছে, যার সর্বশেষ শুরু ২০০০ সালের গোড়ার দিকে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় সম্পদের একটা বড় অংশ এবং স্বাধীনতার দাবি করেছে। যার ফলে কয়েক দশক ধরে সামরিক দমন-পীড়ন চলছে।
অন্যদিকে, বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় উন্নয়নকে উপেক্ষা করে সম্পদ শোষণের অভিযোগ তুলেছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএ), স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো আব্দুল বাসিত আল জাজিরাকে বলেন, ‘পাকিস্তানের ভেতরে একটি বড় উদ্বেগ রয়েছে যে, যুদ্ধ আরও তীব্র হলে, বিএলএ এবং বিএলএফের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা, যাদের অনেকেই ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় বাস করে, তারা দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা সীমানা অতিক্রম করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সুরক্ষা খোঁজার চেষ্টা করতে পারে।
তাই অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য পাকিস্তানকে ক্রসিং বন্ধ করতে হয়েছিল। তারা সফলভাবে এটি করতে পারে কিনা তা দেখার বিষয়, তবে অন্তত এটিই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।