খুঁজুন
                               
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

ভারত কি সত্যিই পাকিস্তানে নদীর পানি প্রবাহ আটকাতে পারবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
ভারত কি সত্যিই পাকিস্তানে নদীর পানি প্রবাহ আটকাতে পারবে?

ভারতশাসিত কাশ্মিরে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি বন্টন চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ওই আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি আসলেই সিন্ধু নদী ও এর আরও দুটো শাখা নদীর পানির প্রবাহ পাকিস্তানের জন্য বন্ধ করে দিতে পারবে? এই চুক্তির অধীনে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ছয়টি যৌথ নদীর পানি ন্যায্যতার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। গত কয়েক দশকে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে দুটো যুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু চুক্তি বাতিল হয়নি। ওই হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এই চুক্তি সেগুলোর মাঝে অন্যতম। ভারত দাবি করছে, সীমান্তে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পাকিস্তানের মদদ আছে।

যদিও পাকিস্তান তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটি বরং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পানি আটকে দেওয়ার যে কোনও পদক্ষেপ “যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে”। চুক্তি অনুযায়ী— সিন্ধু অববাহিকার রাভি (ইরাবতী), বিয়াস (বিপাশা) ও সুতলেজ (শতদ্রু) নদীর পানি ভারতের জন্য বরাদ্দ। আর সিন্ধু, ঝেলাম ও চেনাব নদীর ৮০ শতাংশ পানি পায় পাকিস্তান। তবে এই নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে আগেও দুই দেশের মাঝে বিরোধ হয়েছে। এসব নদীতে বাঁধ দিয়ে ভারত কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো প্রকল্প করতে চাইলে তাতে বাধ সাধে পাকিস্তান। তাদের যুক্তি, এতে নদীর প্রবাহ হ্রাস এবং এটি চুক্তির লঙ্ঘন। যদিও পাকিস্তানের কৃষিকাজের প্রায় ৮০ শতাংশ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ সিন্ধু অববাহিকার ওই তিন নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর আলোকে সেচ ও সুপেয় পানি থেকে শুরু করে জলবিদ্যুতের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে এই চুক্তিটি পর্যালোচনা ও সংশোধন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিচ্ছে ভারত। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিল বিশ্বব্যাংক, তারাও ছিল চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী আর একটি পক্ষ। তবে গত কয়েক দশক ধরে দুই দেশই এই চুক্তি নিয়ে আইনি লড়াই করেছে। কিন্তু এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষ চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিলো, আর এটি করলো ভারত। কারণ উজানের দেশ হিসেবে তারা ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

ভারত সত্যিই কি পানি আটকে দিতে পারবে?

এখন এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল বলতে আসলে কী বোঝায়? ভারত কি সিন্ধু অববাহিকার পানি আটকে দিতে পারবে? এটি কি আদৌ ভারতের পক্ষে করা সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীতে যখন অনেক বেশি পানির প্রবাহ থাকবে, তখন ওই শত শত কোটি ঘনমিটার পানি আটকানো ভারতের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কারণ ওই বিপুল পরিমাণ পানি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো সংরক্ষণাগার বা খাল, কোনোটাই ভারতের নেই। “ভারতের পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মূলত ‘রান-অব-দ্য-রিভার’ বা বাঁধভিত্তিক। এগুলোর জন্য বিশাল জলাধারের প্রয়োজন হয় না,” বলেছেন ‘সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠাক্কার। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুধু প্রবাহমান পানির গতি ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়, ওগুলোতে বিপুল পরিমাণ পানি জমিয়ে রাখার কোনো দরকার পড়ে না। ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই চুক্তির অধীনে সিন্ধু, ঝেলাম ও চেনাব নদীর ২০ শতাংশ পানি ভারতের জন্য বরাদ্দ করা থাকলেও যথাযথ অবকাঠামো না থাকার কারণে ভারত তার অনেকটাই ব্যবহার করতে পারেনি। এ কারণেই ভারত জলাধার নির্মাণ করতে চায়।

কিন্তু পাকিস্তান মনে করে, ওই তিন নদীতে অবকাঠামো নির্মাণের অর্থ চুক্তি লঙ্ঘন। তবে এখন চুক্তি স্থগিত হওয়ায় ভারত ওই নদীগুলোতে নতুন করে বাঁধ দিতে পারবে বা পুরোনো অবকাঠামোকে পরিবর্তন করতে পারবে বা পাকিস্তানকে না জানিয়ে পানিও সরাতে পারবে। “আগে যেকোনও প্রকল্পের নথিপত্র পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হতো। এখন থেকে আর সেটা লাগবে না” বলে জানিয়েছেন হিমাংশু ঠাক্কার। যদিও চুক্তি থেকে সরে এলেও ভারত রাতারাতি ওই তিন নদীতে কোনও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবে না। কারণ পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও ভারতের অভ্যন্তরেই ওই এলাকায় স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে আগে শুরু করা অনেক প্রকল্পের কাজই শেষ হয়নি, বরং থেমে আছে।

২০১৬ সালে ভারত-শাসিত কাশ্মিরে আরেকবার “সন্ত্রাসী হামলা” হয়েছিলো। তখন ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা দ্রুত সিন্ধু অববাহিকায় বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করবে এবং পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুততর সময়ের মাঝে করবে। যদিও ওই প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিবিসি তার নিজস্ব সূত্রে জানতে পেরেছে, বাস্তবে অগ্রগতি খুবই কম। আটকে দিলে পাকিস্তানের ওপর যে প্রভাব পড়বে ভারত পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও বা রাতারাতি নতুন কোনো অবকাঠামো স্থাপন না করলেও যেসব অবকাঠামো ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আছে, ওগুলো দিয়ে ভারত যদি পাকিস্তানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে শুষ্ক মৌসুমে পাকিস্তানে তার প্রভাব পড়বে।

কারণ তখন দেশটিতে এমনিতেই তীব্র পানির সংকট থাকে— বলছেন বিশেষজ্ঞরা। টাফট্‌স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নীতি ও পরিবেশ গবেষণা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান এফ খান পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় লিখেছেন, “শুষ্ক মৌসুমে সিন্ধু অববাহিকায় পানির প্রবাহ এমনিতেই কমে যায়। তখন পানি ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।” ওই শুষ্ক মৌসুমে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে, এখন তা বেশ উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তখন এই চুক্তির অনুপস্থিতি বেশি করে টের পাওয়া যাবে।” চুক্তি অনুযায়ী, ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে পানি প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করতে হয় বা জানাতে হয়। ওগুলো বন্যা পূর্বাভাস, সেচের পরিকল্পনা, পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুপেয় পানির জন্য খুবই জরুরি। কিন্তু “সিন্ধু পানি চুক্তি” বিষয়ক ভারতের সাবেক কমিশনার প্রদীপ কুমার সাক্সেনা বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ভারত পাকিস্তানকে আর বন্যার তথ্য দিতে বাধ্য না।

পাকিস্তানের ওই অঞ্চলটি জুনের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার কবলে পড়ে। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারত এমনিতেই খুব সীমিত তথ্য শেয়ার করে। “সিন্ধু পানি চুক্তি” বিষয়ক পাকিস্তানের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শিরাজ মেমন বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, “চুক্তি স্থগিতের আগেও ভারত কেবল ৪০ শতাংশ তথ্য পাকিস্তানকে জানাতো।” এই অঞ্চলে যখনই পানি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়, তখনই প্রশ্ন ওঠে— উজানের দেশ কি ভাটির দেশের প্রতি পানিকে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করতে পারে কি না। এই পরিস্থিতিকে অনেক সময় “পানি বোমা” বলা হয়, যেখানে উজানের দেশ সাময়িকভাবে পানি আটকে রাখতে পারে এবং তারপর কোনোপ্রকার সতর্কতা ছাড়াই সে হঠাৎ করে ওই পানি ছেড়ে দিতে পারে, যা ভাটির দেশের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
ভারত কি “পানি বোমা” ব্যবহার করবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি “ওয়াটার বোম্ব” বা “পানি বোমা” ব্যবহার করে, তাহলে তার নিজের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোই সর্বপ্রথম বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ তাদের বেশিরভাগ বাঁধই পাকিস্তানের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। তবে এখন ভারত চাইলে কোনও পূর্ব-সতর্কতা ছাড়া তার জলাধার থেকে পলি অপসারণ করতে পারে।

এটি করলে ভাটিতে থাকা পাকিস্তান ভয়াবহভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। হিমালয় থেকে নেমে আসা সিন্ধুর মতো নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি থাকে, যা বাঁধ বা ব্যারাজে দ্রুত জমে যায়। হঠাৎ করে ওই পলি ছেড়ে দিলে তা ভাটির বড় ক্ষতি করতে পারে। এখানে আরও একটি ভূ-রাজনৈতিক বিষয় আছে। ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে ভারত যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে, অর্থাৎ উজানে— তেমনি চীন ও ভারতের ক্ষেত্রে চীন আবার উজানে। অর্থাৎ, ভারত নিজেই চীনের ওপর ভৌগোলিক দিক থেকে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদে। আর সিন্ধু নদীর উৎপত্তি স্থলও চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বতে। ২০১৬ সালে ভারতশাসিত কাশ্মিরে “সন্ত্রাসী” হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সতর্ক করে বলেছিল— “রক্ত আর পানি একসাথে প্রবাহিত হতে পারে না।” তখন চীন তাদের ইয়ারলুং সাংপো নদীর একটি উপনদী থেকে ভারতে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এই নদীটিই উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। এখন ওইসময় চীন দাবি করেছিল, একটি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তারা এটি করেছে। তবে চীনের ওই পদক্ষেপ তখন অনেকেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখেছে।

পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ হতে যাচ্ছে। ভারতীয় অংশে ব্রহ্মপুত্রের পানিপ্রবাহে ওই বাঁধ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চীন দাবি করছে, পরিবেশের ওপর ওই বাঁধের প্রভাব পড়বে খুবই কম। কিন্তু ভারত আশঙ্কা করছে, এই বাঁধের কারণে নদীর ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাবে। বিবিসি বাংলা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।