খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভারত কি সত্যিই পাকিস্তানে নদীর পানি প্রবাহ আটকাতে পারবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
ভারত কি সত্যিই পাকিস্তানে নদীর পানি প্রবাহ আটকাতে পারবে?

ভারতশাসিত কাশ্মিরে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সিন্ধু পানি বন্টন চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। সিন্ধু অববাহিকার ছয়টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত ওই আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে এখন প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি আসলেই সিন্ধু নদী ও এর আরও দুটো শাখা নদীর পানির প্রবাহ পাকিস্তানের জন্য বন্ধ করে দিতে পারবে? এই চুক্তির অধীনে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের ছয়টি যৌথ নদীর পানি ন্যায্যতার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। গত কয়েক দশকে ভারত-পাকিস্তানের মাঝে দুটো যুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু চুক্তি বাতিল হয়নি। ওই হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এই চুক্তি সেগুলোর মাঝে অন্যতম। ভারত দাবি করছে, সীমান্তে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পাকিস্তানের মদদ আছে।

যদিও পাকিস্তান তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটি বরং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পানি আটকে দেওয়ার যে কোনও পদক্ষেপ “যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে গণ্য হবে”। চুক্তি অনুযায়ী— সিন্ধু অববাহিকার রাভি (ইরাবতী), বিয়াস (বিপাশা) ও সুতলেজ (শতদ্রু) নদীর পানি ভারতের জন্য বরাদ্দ। আর সিন্ধু, ঝেলাম ও চেনাব নদীর ৮০ শতাংশ পানি পায় পাকিস্তান। তবে এই নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে আগেও দুই দেশের মাঝে বিরোধ হয়েছে। এসব নদীতে বাঁধ দিয়ে ভারত কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো প্রকল্প করতে চাইলে তাতে বাধ সাধে পাকিস্তান। তাদের যুক্তি, এতে নদীর প্রবাহ হ্রাস এবং এটি চুক্তির লঙ্ঘন। যদিও পাকিস্তানের কৃষিকাজের প্রায় ৮০ শতাংশ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ সিন্ধু অববাহিকার ওই তিন নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোর আলোকে সেচ ও সুপেয় পানি থেকে শুরু করে জলবিদ্যুতের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে এই চুক্তিটি পর্যালোচনা ও সংশোধন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিচ্ছে ভারত। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিল বিশ্বব্যাংক, তারাও ছিল চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী আর একটি পক্ষ। তবে গত কয়েক দশক ধরে দুই দেশই এই চুক্তি নিয়ে আইনি লড়াই করেছে। কিন্তু এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষ চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিলো, আর এটি করলো ভারত। কারণ উজানের দেশ হিসেবে তারা ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।

ভারত সত্যিই কি পানি আটকে দিতে পারবে?

এখন এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল বলতে আসলে কী বোঝায়? ভারত কি সিন্ধু অববাহিকার পানি আটকে দিতে পারবে? এটি কি আদৌ ভারতের পক্ষে করা সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীতে যখন অনেক বেশি পানির প্রবাহ থাকবে, তখন ওই শত শত কোটি ঘনমিটার পানি আটকানো ভারতের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কারণ ওই বিপুল পরিমাণ পানি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো সংরক্ষণাগার বা খাল, কোনোটাই ভারতের নেই। “ভারতের পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো মূলত ‘রান-অব-দ্য-রিভার’ বা বাঁধভিত্তিক। এগুলোর জন্য বিশাল জলাধারের প্রয়োজন হয় না,” বলেছেন ‘সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠাক্কার। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে শুধু প্রবাহমান পানির গতি ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়, ওগুলোতে বিপুল পরিমাণ পানি জমিয়ে রাখার কোনো দরকার পড়ে না। ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, ওই চুক্তির অধীনে সিন্ধু, ঝেলাম ও চেনাব নদীর ২০ শতাংশ পানি ভারতের জন্য বরাদ্দ করা থাকলেও যথাযথ অবকাঠামো না থাকার কারণে ভারত তার অনেকটাই ব্যবহার করতে পারেনি। এ কারণেই ভারত জলাধার নির্মাণ করতে চায়।

কিন্তু পাকিস্তান মনে করে, ওই তিন নদীতে অবকাঠামো নির্মাণের অর্থ চুক্তি লঙ্ঘন। তবে এখন চুক্তি স্থগিত হওয়ায় ভারত ওই নদীগুলোতে নতুন করে বাঁধ দিতে পারবে বা পুরোনো অবকাঠামোকে পরিবর্তন করতে পারবে বা পাকিস্তানকে না জানিয়ে পানিও সরাতে পারবে। “আগে যেকোনও প্রকল্পের নথিপত্র পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হতো। এখন থেকে আর সেটা লাগবে না” বলে জানিয়েছেন হিমাংশু ঠাক্কার। যদিও চুক্তি থেকে সরে এলেও ভারত রাতারাতি ওই তিন নদীতে কোনও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবে না। কারণ পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও ভারতের অভ্যন্তরেই ওই এলাকায় স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে আগে শুরু করা অনেক প্রকল্পের কাজই শেষ হয়নি, বরং থেমে আছে।

২০১৬ সালে ভারত-শাসিত কাশ্মিরে আরেকবার “সন্ত্রাসী হামলা” হয়েছিলো। তখন ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা দ্রুত সিন্ধু অববাহিকায় বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করবে এবং পানি সংরক্ষণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুততর সময়ের মাঝে করবে। যদিও ওই প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিবিসি তার নিজস্ব সূত্রে জানতে পেরেছে, বাস্তবে অগ্রগতি খুবই কম। আটকে দিলে পাকিস্তানের ওপর যে প্রভাব পড়বে ভারত পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও বা রাতারাতি নতুন কোনো অবকাঠামো স্থাপন না করলেও যেসব অবকাঠামো ইতোমধ্যে ভারতের কাছে আছে, ওগুলো দিয়ে ভারত যদি পাকিস্তানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে শুষ্ক মৌসুমে পাকিস্তানে তার প্রভাব পড়বে।

কারণ তখন দেশটিতে এমনিতেই তীব্র পানির সংকট থাকে— বলছেন বিশেষজ্ঞরা। টাফট্‌স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নীতি ও পরিবেশ গবেষণা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাসান এফ খান পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় লিখেছেন, “শুষ্ক মৌসুমে সিন্ধু অববাহিকায় পানির প্রবাহ এমনিতেই কমে যায়। তখন পানি ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।” ওই শুষ্ক মৌসুমে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে, এখন তা বেশ উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তখন এই চুক্তির অনুপস্থিতি বেশি করে টের পাওয়া যাবে।” চুক্তি অনুযায়ী, ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে পানি প্রবাহসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করতে হয় বা জানাতে হয়। ওগুলো বন্যা পূর্বাভাস, সেচের পরিকল্পনা, পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুপেয় পানির জন্য খুবই জরুরি। কিন্তু “সিন্ধু পানি চুক্তি” বিষয়ক ভারতের সাবেক কমিশনার প্রদীপ কুমার সাক্সেনা বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ভারত পাকিস্তানকে আর বন্যার তথ্য দিতে বাধ্য না।

পাকিস্তানের ওই অঞ্চলটি জুনের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার কবলে পড়ে। তবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারত এমনিতেই খুব সীমিত তথ্য শেয়ার করে। “সিন্ধু পানি চুক্তি” বিষয়ক পাকিস্তানের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার শিরাজ মেমন বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, “চুক্তি স্থগিতের আগেও ভারত কেবল ৪০ শতাংশ তথ্য পাকিস্তানকে জানাতো।” এই অঞ্চলে যখনই পানি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়, তখনই প্রশ্ন ওঠে— উজানের দেশ কি ভাটির দেশের প্রতি পানিকে “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করতে পারে কি না। এই পরিস্থিতিকে অনেক সময় “পানি বোমা” বলা হয়, যেখানে উজানের দেশ সাময়িকভাবে পানি আটকে রাখতে পারে এবং তারপর কোনোপ্রকার সতর্কতা ছাড়াই সে হঠাৎ করে ওই পানি ছেড়ে দিতে পারে, যা ভাটির দেশের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
ভারত কি “পানি বোমা” ব্যবহার করবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি “ওয়াটার বোম্ব” বা “পানি বোমা” ব্যবহার করে, তাহলে তার নিজের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোই সর্বপ্রথম বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে। কারণ তাদের বেশিরভাগ বাঁধই পাকিস্তানের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। তবে এখন ভারত চাইলে কোনও পূর্ব-সতর্কতা ছাড়া তার জলাধার থেকে পলি অপসারণ করতে পারে।

এটি করলে ভাটিতে থাকা পাকিস্তান ভয়াবহভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। হিমালয় থেকে নেমে আসা সিন্ধুর মতো নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পলিমাটি থাকে, যা বাঁধ বা ব্যারাজে দ্রুত জমে যায়। হঠাৎ করে ওই পলি ছেড়ে দিলে তা ভাটির বড় ক্ষতি করতে পারে। এখানে আরও একটি ভূ-রাজনৈতিক বিষয় আছে। ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে ভারত যেমন সুবিধাজনক অবস্থানে, অর্থাৎ উজানে— তেমনি চীন ও ভারতের ক্ষেত্রে চীন আবার উজানে। অর্থাৎ, ভারত নিজেই চীনের ওপর ভৌগোলিক দিক থেকে নির্ভরশীল। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র নদে। আর সিন্ধু নদীর উৎপত্তি স্থলও চীন নিয়ন্ত্রিত তিব্বতে। ২০১৬ সালে ভারতশাসিত কাশ্মিরে “সন্ত্রাসী” হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত সতর্ক করে বলেছিল— “রক্ত আর পানি একসাথে প্রবাহিত হতে পারে না।” তখন চীন তাদের ইয়ারলুং সাংপো নদীর একটি উপনদী থেকে ভারতে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এই নদীটিই উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। এখন ওইসময় চীন দাবি করেছিল, একটি পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তারা এটি করেছে। তবে চীনের ওই পদক্ষেপ তখন অনেকেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখেছে।

পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চীন তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ হতে যাচ্ছে। ভারতীয় অংশে ব্রহ্মপুত্রের পানিপ্রবাহে ওই বাঁধ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চীন দাবি করছে, পরিবেশের ওপর ওই বাঁধের প্রভাব পড়বে খুবই কম। কিন্তু ভারত আশঙ্কা করছে, এই বাঁধের কারণে নদীর ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাবে। বিবিসি বাংলা

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে সকালে আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে মামলা রায় পড়া শুরু করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। তিনি বলেন, সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রমাণিত। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। স্বপ্নাও সোহেল রানার মতো একই অপরাধে অপরাধী। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যথিত করে। এদিকে এ মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত ৪ জুন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে সেখানে রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তার মা। ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এই ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও ডুবে গেছে যাত্রীবাহী বাস

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনের ঢালা ভেঙে আবারও যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি পরিবহন’-এর একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পাড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে কাজ শুরু করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা। বাসটি নদী থেকে টেনে তুলতে এরই মধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএ-এর মেম্বার (ইঞ্জিনিয়ারিং), যিনি বর্তমানে দৌলতদিয়ায় অবস্থান করছেন।
এর আগে, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সভাপতি পলাশ মজুমদার, সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম

চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের কমিটি গঠন

ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের ২০২৬-২০২৭ রোটারী বর্ষের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি চাঁদপুর রোটারী ভবনের ডা. নুরুর রহমান কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ক্লাবের চলতি রোটারী বর্ষের পঞ্চম বোর্ড সভায় এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার এবং সেক্রেটারি হিসেবে রোটারিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ইমিডিয়েট পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা); প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট রোটারিয়ান উজ্জ্বল হোসাইন; ভাইস প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন, রোটারিয়ান গোপাল চন্দ্র সাহা ও রোটারিয়ান মো. নাজিমুল ইসলাম এমিল; সেক্রেটারি ইলেক্ট রোটারিয়ান শাহীন আক্তার; জয়েন্ট সেক্রেটারি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান পাটোয়ারী, রোটারিয়ান ইবনে আজম সাব্বির, রোটারিয়ান কাজী মিজানুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রোটারিয়ান মহসিন পাঠান। ট্রেজারার হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান সঞ্জয় কুমার অধিকারী। ডিরেক্টর ক্লাব সার্ভিস জুয়েল হাসান, ডিরেক্টর ভোকেশনাল সার্ভিস মোহাম্মদ কবির হোসেন খান, ডিরেক্টর কমিউনিটি সার্ভিস রোটারিয়ান কাজী মাইনুল হক জীবন, ডিরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস রোটারিয়ান সাইফুল ইসলাম রনি এবং ডিরেক্টর ইয়ূথ সার্ভিস রোটারিয়ান রেদওয়ান রহমাতুল্লাহ সম্রাট।
বুলেটিন এডিটর হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান মানিক লাল দেবনাথ এবং জয়েন্ট বুলেটিন এডিটর রোটারিয়ান মো. মাইনুদ্দিন। চীফ সার্জেন্ট এট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট ভাস্কর দাস এবং সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস হিসেবে রয়েছেন রোটারিয়ান ফয়সাল আহমেদ ফরাজী, রোটারিয়ান মো. মহসিন ভূঁইয়া, রোটারিয়ান গাজী মোহাম্মদ মহসিন কাদের ও রোটারিয়ান মোহাম্মদ রুবেল মিয়াজী শোভন। নবগঠিত এ কমিটি আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সদস্যবৃন্দ। সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায়, রোটারিয়ান তমাল কুমার ঘোষ, রোটারিয়ান অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটারিয়ান ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটারিয়ান নাসির উদ্দিন খান, রোটারিয়ান শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটারিয়ান শাহেদুল হক মোর্শেদ, রোটারিয়ান খোরশেদ আলম পাটোয়ারী কাঞ্চন, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন এবং সিনিয়র সদস্য রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট ইকবাল-বিন-বাশার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সভাপতি রোটানিয়ান মো. মোস্তফা ফুল মিঞা, সেক্রেটারি রোটারিয়ান নাজিমুল ইসলাম এমিলসহ বর্তমান বোর্ডের অন্য সদস্যবৃন্দ। সভায় বক্তারা নবগঠিত কমিটির প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও মানবকল্যাণমুখী করার আহ্বান জানান।