খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফ্যাসিবাদের জামানায় শিকারি সাংবাদিক

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদের জামানায় শিকারি সাংবাদিক

ফ্যাসিবাদের যুগে সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত জটিল এবং বিপজ্জনক। ফ্যাসিবাদী শাসন সাধারণত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা, এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দমন করার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা স্থাপন ও রক্ষা করে। এই শাসনব্যবস্থায় সাংবাদিকদের কাজ শুধু কঠিনই নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের “শিকারি” হিসেবে উল্লেখ করা যায়, যারা সত্য ও ন্যায়ের অনুসন্ধানে নিরন্তর কাজ করে, যদিও তারা নিজেরাই শিকার হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদ হলো এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা, যা জাতীয়তাবাদ, সামরিকতন্ত্র এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি সাধারণত একনায়কতন্ত্র, মতপ্রকাশের দমন, এবং রাজনীতি ও অর্থনীতির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখে। ফ্যাসিবাদী সরকার মিডিয়াকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, যাতে জনগণ তাদের শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে। মতবিরোধ, সমালোচনা, বা সরকারের অপকর্ম প্রকাশ করার চেষ্টা করলে সাংবাদিকদের শারীরিক নির্যাতন, গ্রেফতার, এমনকি হত্যার শিকার হতে হয়।

সাংবাদিকতার ভূমিকা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে : সাংবাদিকতা হল গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এটি শাসকদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখে এবং জনগণকে তথ্যসমৃদ্ধ করে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে সাংবাদিকরা অনেক বাধার সম্মুখীন হন। এ ধরনের শাসনে সাংবাদিকদের মূল চ্যালেঞ্জ হল : ফ্যাসিবাদী শাসন সাধারণত সাংবাদিকদের উপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে। তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা প্রচার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্যাসিবাদী শাসন তাদের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য সাংবাদিকদের বাধ্য করে। এতে সাংবাদিকদের নৈতিকতার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফ্যাসিবাদী শাসকরা সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্য গ্রেফতার, হুমকি এবং সহিংসতার আশ্রয় নেয়। অনেক সাংবাদিক নিখোঁজ বা নিহত হন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেক সময় এই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বা তাদের সমর্থনে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়।

ফ্যাসিবাদী শাসনে “শিকারি সাংবাদিক” বলতে এমন সাংবাদিকদের বোঝানো হয় যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য অনুসন্ধান করেন। তারা শাসকের ভয় দেখানো বা দুর্নীতির মুখোশ খুলে দিতে সচেষ্ট হন। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সরশিপের মধ্যেও তারা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে সত্য তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেন। অনেকে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন, যাতে তাদের নিজ দেশের আইন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত না হয়। শিকারি সাংবাদিকরা ব্লগ, সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মতো বিকল্প মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের বার্তা পৌঁছান। এই সাংবাদিকরা জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। উদাহরণ: ফ্যাসিবাদের যুগে শিকারি সাংবাদিকদের সংগ্রাম ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে সাংবাদিকরা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন: হিটলারের শাসনামলে জার্মানিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিষিদ্ধ করা হয়। তারপরও কিছু সাংবাদিক, যেমন কার্ল ফন অসিয়েতস্কি, তাদের লেখার মাধ্যমে নাৎসি শাসনের অব্যবস্থাপনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রকাশ করেন। এর জন্য তাদের জেল, নির্যাতন এবং মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। স্তালিনের আমলে সংবাদ মাধ্যম কেবলমাত্র শাসকের হাতিয়ার ছিল। তবুও কিছু সাংবাদিক, যেমন আনা পলিটকোভস্কায়া, তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য উদ্ঘাটন করেন। মিয়ানমারে, বেলারুশে এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে সাংবাদিকদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তবুও শিকারি সাংবাদিকরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যেমন মিয়ানমারের উইন টিন এবং বেলারুশের মারিয়া রাসোলভা।

ফ্যাসিবাদের যুগে সাংবাদিকদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হল তাদের নিরাপত্তা। রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট শক্তি প্রায়শই তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে সাংবাদিকরা নতুন নতুন উপায়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্যাসিবাদী সরকাররা নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের উপর নজরদারি করে এবং তাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় সাধারণ মানুষও ভয়ে সাংবাদিকদের সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানায়। ন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, সাংবাদিকদের রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যা সেন্সরশিপ এড়াতে সহায়।

ফ্যাসিবাদের যুগে শিকারি সাংবাদিকরা শুধুমাত্র পেশাদার নন; তারা সমাজের জন্য একজন যোদ্ধা। তাদের কাজের মাধ্যমে তারা শুধু সত্য উদ্ঘাটন করেন না, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেন এবং শাসকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সাহায্য করেন। যদিও তাদের পথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ, তবুও তাদের আত্মত্যাগ মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণা। একবিংশ শতাব্দীতে, যখন ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে, তখন এই শিকারি সাংবাদিকরাই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতিরক্ষক।

ফ্যাসিবাদের যুগে শিকারি সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে আরো গভীর বিশ্লেষণ যোগ করা যেতে পারে, যা সাংবাদিকতার নৈতিকতা, ফ্যাসিবাদী সরকারের কৌশল, এবং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত সংগ্রামের দিকগুলোকে বিশদভাবে আলোচনা করবো।ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা সাধারণত তিনটি মূল বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে দমন করে। ফ্যাসিবাদী সরকার সংবাদ মাধ্যমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। তারা এমন সংবাদ প্রচার করতে বাধ্য করে যা শাসকদের সুনাম বাড়ায় এবং জনগণের মধ্যে ভয় বা একত্রীকরণ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, নাৎসি জার্মানিতে জোসেফ গোয়েবেলসের প্রোপাগান্ডা মেশিন “ফ্রিহার প্রেস” নামমাত্র স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমকে সম্পূর্ণরূপে দমন করেছিল। সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর জন্য শারীরিক আক্রমণ, বিচারহীন গ্রেপ্তার, এমনকি হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মেক্সিকো, ফিলিপাইন, এবং তুরস্কের মতো দেশে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটে। ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিকরা ফ্যাসিবাদী সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে বিবেচিত হন।

অনেক ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র সংবাদ মাধ্যমকে তাদের “রাষ্ট্রের যুদ্ধ” নীতি বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সামরিকীকৃত প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে যুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ, এবং শাসকদের কর্তৃত্বকে সঠিক প্রমাণ করা হয়। ঝুঁকি ও নৈতিকতার প্রশ্নে ফ্যাসিবাদী শাসনে সাংবাদিকদের কাজ শুধু তথ্য সংগ্রহ বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ একটি যুদ্ধ। ফ্যাসিবাদের অধীনে সাংবাদিকরা প্রায়শই পছন্দের দুই পথের মুখোমুখি হন: শাসকের সাথে আপস করে কাজ চালিয়ে যাওয়া। বা সত্য উদঘাটনের জন্য জীবন, পরিবার এবং পেশা সবকিছুর ঝুঁকি নেওয়া।

আলোচিত কয়েকটি উদাহরণ : ড্যাফনে কারুয়ানা গ্যালিজিয়া (মাল্টা): তিনি মাল্টার শাসনব্যবস্থায় দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। ২০১৭ সালে বোমা হামলায় তার মৃত্যু ঘটে।জামাল খাশোগি (সৌদি আরব): সৌদি সরকারের নীতির সমালোচনা করার জন্য ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে কাজ করা সাংবাদিকদের নৈতিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার নীতিবোধের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়। ফ্যাসিবাদী শাসকের চাপের মুখে কিছু সাংবাদিক বাধ্য হন সরকারের পক্ষে লিখতে। অন্যদিকে, যারা এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তারা প্রায়শই নিজেদের এবং তাদের পরিবারের জীবন বিপন্ন করে। শিকারি সাংবাদিকদের শক্তি ও কৌশল শিকারি সাংবাদিকরা একদিকে শাসকদের প্রোপাগান্ডার মুখোশ উন্মোচন করেন, অন্যদিকে তারা জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেন। তাদের প্রতিরোধের কিছু কৌশল হলো:গোপন সংবাদ সংযোগ:কিছু সাংবাদিক সরকার-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম এড়িয়ে বিকল্প উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করেন। তারা নির্ভর করেন অনলাইন মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার ওপর।

প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে ফ্যাসিবাদী শাসকদের সেন্সরশিপ এড়ানোর নতুন পথ তৈরি হয়েছে। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকরা তথ্য সরবরাহ করে থাকেন। ফ্যাসিবাদী শাসনে কাজ করা সাংবাদিকরা প্রায়শই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতো সংস্থাগুলি সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করে।

শিকারি সাংবাদিকদের ভূমিকা শুধু তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়। তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী সচেতনতা তৈরি করেন, যা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।সাংবাদিকরা ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্যায়, দুর্নীতি, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন তুলে ধরে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ফ্যাসিবাদী সরকার তথ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণকে অজ্ঞ করে রাখার চেষ্টা করে। সাংবাদিকরা সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সাহস এবং সচেতনতা তৈরি করেন।

অনেক সময় ফ্যাসিবাদী শাসন পতনের পর সাংবাদিকরা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করেন। তারা নথিভুক্ত করেন যে কীভাবে একটি জাতি ফ্যাসিবাদের করালগ্রাসে পড়েছিল এবং সেখান থেকে মুক্তি লাভ করেছিল।

ফ্যাসিবাদের যুগে সাংবাদিকদের ভূমিকা কেবলমাত্র একটি পেশার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নৈতিক, রাজনৈতিক, এবং সামাজিক দায়িত্ব। শিকারি সাংবাদিকরা তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার স্বার্থে কাজ করেন। তারা কেবল শাসকদের বিরুদ্ধে নয়, বরং জনগণের উদাসীনতা এবং ভয়কেও চ্যালেঞ্জ জানায়।

যখন ফ্যাসিবাদ সব কিছুকে দমন করতে চায়, তখন এই সাংবাদিকরাই সমাজের অন্ধকার সময়ে আলোর ঝলকানি হয়ে ওঠে। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, সত্যের অনুসন্ধানীরা শাসকদের ভয় পায় না। তাদের আত্মত্যাগ ও সাহস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনো সহজে পাওয়া যায় না।

লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ২০২১ ব্যাচ, বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট (পিআইবি)।

 

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।