খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

কিশোরীর প্রেম : জীবনের পরিবর্তনশীল এক অধ্যায়

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
কিশোরীর প্রেম : জীবনের পরিবর্তনশীল এক অধ্যায়

কিশোরীর প্রেম একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়, যা মানব জীবনের এক অনন্য অধ্যায়কে চিহ্নিত করে। এটি কিশোরী মেয়েদের মানসিক, সামাজিক, এবং শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রেম, একটি অনুভূতি হিসেবে, এই বয়সে কিশোরীদের জীবনে বিশেষভাবে আবির্ভূত হয় এবং তাদের জীবনবোধ, মানসিক পরিপক্বতা, এবং ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে। এই প্রবন্ধে কিশোরীর প্রেমের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হবে—মানসিক বিকাশ, সামাজিক প্রভাব, এবং এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলি নিয়ে।

কিশোর বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন একজন মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে দ্রুত পরিণত হতে থাকে। এই বয়সে প্রেম মূলত আবেগপ্রবণ, রোমাঞ্চকর এবং কৌতূহলনির্ভর হয়। এটি প্রথমবারের মতো একজন কিশোরীর জীবনে নতুন এক ধরনের আকর্ষণ, স্নেহ এবং সম্পর্ক গড়ার ইচ্ছা তৈরি করে। প্রেমের প্রতি এই আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই তার বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।কিশোরী বয়সের প্রেমের বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য বয়সের প্রেম থেকে আলাদা। এখানে আবেগ প্রাধান্য পায়, যুক্তি নয়। কিশোরীরা সাধারণত তাদের অনুভূতির গভীরতায় ডুবে যায় এবং তাদের প্রেমের সম্পর্কগুলোকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করে।

মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক : কিশোরীদের মনের গঠন এ সময় দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাদের মানসিক বিকাশের অংশ হিসেবে, আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো প্রেমের অনুভূতির মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। প্রেমের মাধ্যমে তারা নতুন আবেগ এবং মানসিক জগতের সঙ্গে পরিচিত হয়। শারীরিক বিকাশও প্রেমের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এই বয়সে কিশোরীদের শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে, যা তাদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। এই আবেগ, কখনও কখনও, তাদেরকে নতুন সম্পর্ক গড়তে বা একটি বিশেষ ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হতে প্রভাবিত করে।

কিশোরীর প্রেমের ইতিবাচক দিক : কিশোরীর প্রেমের কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যা তাকে মানসিক ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে। প্রেম একটি কিশোরীর মনে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার অনুভূতি জাগায়। একটি প্রেমময় সম্পর্ক কিশোরীর মানসিক শক্তি যোগাতে পারে। এটি তাকে একাকিত্ব থেকে মুক্তি দেয়। প্রেমের মাধ্যমে কিশোরীরা সম্পর্ক গড়ার কৌশল, সহযোগিতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে। এই বয়সে প্রেম কিশোরীদের আবেগ সম্পর্কে সচেতন হতে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।

কিশোরীর প্রেমের নেতিবাচক দিক : তবে, প্রেমের আবেগ অতিমাত্রায় গভীর হলে তা কখনও কখনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেমের আবেগে ডুবে গিয়ে অনেক কিশোরী পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। সম্পর্কের জটিলতা ও প্রত্যাখ্যান অনেক কিশোরীর মধ্যে হতাশা বা মানসিক আঘাত তৈরি করতে পারে। প্রেমের কারণে অনেক কিশোরী পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে, যা সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। আবেগের বশবর্তী হয়ে কিশোরীরা অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব : কিশোরীদের প্রেম নিয়ে সমাজে নানা মতবিরোধ রয়েছে। অনেক সমাজে এটি নিষিদ্ধ বা ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে, কিশোরীরা তাদের প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করে। আবার কিছু সমাজে প্রেমকে প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কিশোরীরা তাদের অনুভূতিগুলো সহজেই প্রকাশ করতে পারে।

পরিবারের ভূমিকা : পরিবারের ভূমিকা কিশোরীর প্রেমকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মা যদি কিশোরীর প্রেমের ব্যাপারে খোলামেলা আলোচনা করেন, তবে এটি কিশোরীর জন্য উপকারী হতে পারে। কিশোরীর অনুভূতিগুলোকে সম্মান জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে পারে। পরিবারের উচিত কিশোরীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা, তবে তা কখনও যেন তার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করে।

কিশোরীর প্রেমের নৈতিক শিক্ষা : প্রেমের আসল অর্থ বোঝানো। দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো সম্পর্কে সচেতন করা। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শেখানো।

কিশোরীর প্রেম একটি স্বাভাবিক ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, এটি সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তা কিশোরীর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সমন্বিত ভূমিকা কিশোরীর প্রেমের আবেগকে সঠিক পথে চালিত করতে সহায়তা করতে পারে। একমাত্র তখনই কিশোরীরা প্রেমের মাধ্যমে জীবনের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাবে।

কিশোর বয়স জীবনের এক অপরিহার্য ও উত্তেজনাপূর্ণ সময়। এ সময় মেয়েরা ধীরে ধীরে শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। প্রেম, যা কিশোরীর জীবনে নতুন রঙ ও অনুভূতি নিয়ে আসে, তার মানসিক জগৎকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রেমের আবেগ শুধু তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনের অংশ নয়, এটি জীবনের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার শুরু।

প্রেমের আবেগের গভীরতা : কিশোরীদের প্রেম সাধারণত কল্পনাপ্রবণ ও আবেগনির্ভর হয়। তারা তাদের আদর্শ ব্যক্তিকে রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শুরু করে। কিশোরীদের প্রেমের সম্পর্ক অনেক সময় মনের গভীর চাহিদা, স্নেহ, এবং নিরাপত্তার খোঁজ থেকে আসে। প্রেমের এই অনুভূতি তাদের মনের গভীরে আশা ও আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়।

এই বয়সে প্রেমের সঙ্গে কিশোরীদের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার দ্বন্দ্বও কাজ করে। তারা প্রেমকে শুধু সম্পর্ক হিসেবে নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দিক তাদের এই স্বপ্নকে ভেঙে দিতে পারে, যা তাদের আবেগের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

প্রেম ও শিক্ষার সমন্বয়  : প্রেম তাদের শিক্ষাজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিছু কিশোরী প্রেমের আবেগে মগ্ন হয়ে পড়াশোনার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। আবার কিছু কিশোরী প্রেমের অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবনে বড় কিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা করে।

ইতিবাচক দিক : প্রেম কিশোরীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনতে পারে। অনেকে তাদের ভালোবাসার মানুষের অনুপ্রেরণায় জীবনে বড় কিছু করার জন্য উৎসাহ পায়।

নেতিবাচক দিক : প্রেমের আবেগে কিশোরীরা অনেক সময় পড়াশোনার গুরুত্ব উপেক্ষা করে। এটি তাদের একাডেমিক ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

কিশোরীর প্রেমে বন্ধু ও সমাজের ভূমিকা : বন্ধুরা কিশোরীদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে। এই বয়সে কিশোরীরা বন্ধুদের সঙ্গে তাদের প্রেমের অনুভূতি শেয়ার করে। বন্ধুরা অনেক সময় কিশোরীদের প্রেমের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিশোরীর প্রেমকে অনেকভাবেই প্রভাবিত করে। কিছু সমাজে কিশোর বয়সে প্রেমকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। ফলে কিশোরীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সংকোচবোধ করে। আবার, কিছু সংস্কৃতিতে প্রেমকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়, যেখানে কিশোরীরা নিজেদের ইচ্ছা ও অনুভূতিগুলো নিয়ে খোলামেলা হতে পারে।

প্রেমের আবেগ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক ভূমিকা : পরিবার কিশোরীর প্রেমের বিষয়টি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে। পরিবার যদি কিশোরীর প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং তার মনের কথা শোনার চেষ্টা করে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই সম্ভব।

বাবা-মা যদি কিশোরীর প্রেমের বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন, তবে কিশোরী তার অনুভূতি নিয়ে স্বস্তি পাবে। এটি তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগায়।পরিবারের উচিত কিশোরীদের জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। তবে এটি যেন তাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না করে।

প্রেমের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের বিকাশ : কিশোরীর প্রেম শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি তার ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রেম কিশোরীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস, এবং সহনশীলতা গড়ে তোলে। প্রেমের মাধ্যমে কিশোরীরা নিজেদের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো উপলব্ধি করতে পারে। প্রেমের সম্পর্ক কিশোরীদের মধ্যে যোগাযোগ দক্ষতা এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক উন্নত করতে সাহায্য করে।

সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতার মধ্যে দিয়ে কিশোরীরা সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে।

প্রেম ও প্রযুক্তির প্রভাব: বর্তমান যুগে প্রযুক্তি কিশোরীর প্রেমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ, এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠা এখন একটি সাধারণ বিষয়। তবে, এটি যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি বিপদও বয়ে আনতে পারে।

প্রযুক্তি প্রেমের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে। এটি সম্পর্ককে সহজ এবং আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

প্রযুক্তি-নির্ভর সম্পর্ক কখনও কখনও কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গোপনীয়তার অভাব, অতিরিক্ত সময় ব্যয়, এবং প্রতারণার ঝুঁকি কিশোরীদের বিপদে ফেলতে পারে।

নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা : কিশোর বয়সে প্রেমের বিষয়টি নিয়ে সঠিক নৈতিক শিক্ষা এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেমের প্রকৃতি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেমের ভূমিকা বোঝানো। সম্পর্কের সীমা এবং গোপনীয়তার গুরুত্ব বোঝানো

কিশোরীর প্রেম জীবনের একটি জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে প্রভাব ফেলে এবং তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। প্রেমের এই অধ্যায় সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সমর্থন পেলে কিশোরীরা জীবনে আরও সফল এবং পরিপক্ব হয়ে উঠতে পারে। বাবা-মা, শিক্ষক এবং সমাজের সহানুভূতি ও সমর্থন কিশোরীদের প্রেমের অনুভূতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। এর মাধ্যমে কিশোরীরা তাদের জীবনের ইতিবাচক লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।

লেখক: উজ্জ্বল হোসাইন, সংগঠক ও প্রাবন্ধিক। মোবাইল : 016751283, rtrujjal@gmail.com

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।