খুঁজুন
                               
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফিলিস্তিনে আল জাজিরা টিভির সম্প্রচার বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
ফিলিস্তিনে আল জাজিরা টিভির সম্প্রচার বন্ধ

ফিলিস্তিনে কাতারের আল জাজিরা টিভির সম্প্রচার স্থগিত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। মূলত “উস্কানিমূলক উপাদান” সম্প্রচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক এই টিভির সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি করেছে তারা। যদিও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। কারণ ফিলিস্তিনের অংশ হলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজা শাসন করে না। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা বুধবার বলেছে, কাতারের এই টিভি নেটওয়ার্কের “উস্কানিমূলক উপাদান” প্রচারের কারণে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে আল জাজিরা টেলিভিশনের সম্প্রচারসহ ভূখণ্ডে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

বার্তাসংস্থা ওয়াফা এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে সংস্থাটি বলেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কৃতি, স্বরাষ্ট্র এবং যোগাযোগ মন্ত্রীরা যৌথভাবে আল জাজিরা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তাদের দাবি, কাতারভিত্তিক এই চ্যানেলের সম্প্রচারের উপাদান “প্রতারণামূলক এবং বিবাদকে বাড়িয়ে দিচ্ছে”। এদিকে আল জাজিরা বন্ধের এই আদেশে বলা হয়েছে যে, সিদ্ধান্তটি সাময়িক, কিন্তু অস্থায়ী এই আদেশ কবে শেষ হবে সেই তারিখ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অবশ্য গত সপ্তাহে ইসরায়েলি-অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন ক্যাম্পে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী এবং সশস্ত্র যোদ্ধাদের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনার খবর কভারেজের জন্য আল জাজিরার সমালোচনা করেছিল। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আল জাজিরা বুধবারের এই সিদ্ধান্তকে “অধিকৃত অঞ্চলে চলমান ঘটনা রিপোর্ট করা থেকে নিরুৎসাহিত করার একটি প্রচেষ্টা” বলে নিন্দা করেছে। এছাড়া  ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার এবং পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে রিপোর্ট করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আর জাজিরা।

অবশ্য হামাস পরিচালিত গাজায় আল জাজিরা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গাজায় কোনও ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে নিয়ন্ত্রণকারী দল ফাতাহ বলেছে, সম্প্রচারকারী এই সংস্থাটি (আর জাজিরা) “সাধারণভাবে আমাদের আরব মাতৃভূমি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনে” বিভাজন তৈরি করছে। কাতারের এই চেলিভিশন নেটওয়ার্ককে সহযোগিতা না করার জন্য ফিলিস্তিনিদের উৎসাহিত করার কথাও জানিয়েছে ফাতাহ। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত বছরের সেপ্টেম্বরে পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে আল জাজিরার ব্যুরোতে হামলা চালায় এবং এটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তারও আগে ইসরায়েল গত বছরের মে মাসে একটি আদেশ জারি করে চ্যানেলটিকে দেশে (ইসরায়েলে) কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। ইসরায়েল সেসময় বলেছিল, এটি (আর জাজিরা) ইসরায়েলি নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। পরে ইসরায়েলি আদালতও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনি নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ)  বার্তাসংস্থা তাসনিম, ফার্স নিউজ-সহ ইরানের সরকারি-বেসরকারি সব সংবাদমাদ্যম নিশ্চিত করেছে খামেনির নিহতের তথ্য। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত এবং যোদ্ধা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।” খানের নিহতের ঘটনায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরান। গতকাল (শনিবার) সকালে তার প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান। ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস

তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১০ অপরাহ্ণ
তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আজ শনিবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদেও ‘তেহরানে বিস্ফোরণ ঘটেছে’ বলে সম্প্রচার করা হয়েছে— তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি কিংবা বার্তা দেওয়া হয়নি; তবে ইসরায়েল কাৎজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজানোর কারণ ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, “ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে প্রস্তুত করার জন্য সক্রিয় সতর্কতা।”

মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার ২৫ বাংলাদেশি, ৩ বছরে ১৭৫৮

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। আন্ধেরি পশ্চিমের ইউরি নগর এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বসবাসের অভিযোগে ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশের ভারসোভা বিভাগ ও মহারাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াডের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৫০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থানের অভিযোগ নিশ্চিত হয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই শুধুমাত্র মুম্বাই শহর থেকে ১১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অবৈধ প্রবেশ এবং শহরে থাকার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ভিলে পার্লে এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মীরা ভায়ান্ডার ওই বাসিন্দাকে, যিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ, তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসের অভিযোগে এক হাজার ৭৫৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মুম্বাইতে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৩৮ জনকে ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি মামলাগুলো আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭ জনকে ইতিমধ্যেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সত্যনারায়ণ চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই এক হাজার ১০০ বাংলাদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বছরে ২২৪ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।