খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

আধুনিক সংবাদিকতার প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

উজ্জ্বল হোসাইন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
আধুনিক সংবাদিকতার প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

সাংবাদিকতা একটি সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত গঠিত হয়, সমাজের বিভিন্ন সমস্যার প্রতিফলন ঘটে এবং সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা প্রযুক্তির বিকাশ, সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে জড়িত। আমরা জানি, সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এটি সমাজে গণতন্ত্র রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকরা কেবল তথ্য সরবরাহ করেন না। তারা মতামত তৈরি করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি করেন এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার ভূমিকা আরও বিস্তৃত এবং জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সোস্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের প্রসার সাংবাদিকতার ধরণে বিপ্লব ঘটিয়েছে।
পত্রিকা, টেলিভিশন বা রেডিওর মতো প্রচলিত মাধ্যম ছাড়াও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্লগ, পডকাস্ট এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি নতুন প্রজন্মের সংবাদ গ্রহণের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
পাশাপাশি ফেসবুক, টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে এখান থেকে ভুল তথ্য বা ভুয়া খবরের সমস্যাও বেড়ে গেছে।
সবাই জানি যে, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। কিন্তু বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের উপর রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক সময় মিডিয়া হাউসগুলো রাজনৈতিক দল বা কর্পোরেট স্বার্থের পক্ষপাতিত্ব করে থাকে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
বিভিন্ন সময় সাংবাদিকতার মান উন্নত করার জন্য গভীর সাংবাদিকতা (ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গভীর সাংবাদিকতা সরকারের দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সামাজিক অন্যায় উন্মোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তবে বর্তমান যুগে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতার কারণে অনেক সময় এই ধরনের গভীর সাংবাদিকতার অভাব দেখা যায়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি :
১. ভুয়া খবর : প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে ভুয়া খবর ছড়ানো সহজ হয়ে গেছে। ফলে সত্যতা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
২. রাজনৈতিক চাপ : বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৩. অর্থনৈতিক চাপ : অনেক মিডিয়া হাউস অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন। বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীলতা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
৪. জনগণের আস্থা : ভুল তথ্য, পক্ষপাতিত্ব এবং সেনসেশনালিজমের কারণে সাংবাদিকতার উপর থেকে জনগণের আস্থা কমছে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন : আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (অও), বিগ ডেটা এবং ড্রোন সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
গণমাধ্যমের বিকেন্দ্রীকরণ : ছোট ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলো বিকশিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে সহায়ক।
সচেতন পাঠকসমাজ : বর্তমান যুগে মানুষ সত্যতা যাচাই করার ব্যাপারে আরও সচেতন হয়ে উঠছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা যেমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তেমনি এর সম্ভাবনাও বিশাল। এর মাধ্যমে সমাজে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার কাজ আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এজন্য সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
আধুনিক সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ : আধুনিক সাংবাদিকতা প্রযুক্তি, সমাজ এবং রাজনীতির গতিশীল পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রে যেমন নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে ভুয়া খবর বা ভধশব হবংি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্লগের মাধ্যমে অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এখন অনেক সহজ। এর ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোর উপর সত্যতা যাচাইয়ের বড় চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রাজনৈতিক চাপ ও সেন্সরশিপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের হয়রানি, গ্রেপ্তার, এমনকি হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গণমাধ্যমগুলো বিজ্ঞাপন আয়ের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে কর্পোরেট স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক চাপের কারণে অনেক সময় সত্য তথ্য প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আধুনিক সাংবাদিকতায় অনেক সময় রাজনৈতিক বা কর্পোরেট পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যায়। নিরপেক্ষতার অভাব সংবাদমাধ্যমের উপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও প্রযুক্তি সাংবাদিকতার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তবে এটি নতুন চ্যালেঞ্জও এনেছে। তথ্য ফাঁস এবং সাইবার আক্রমণ সাংবাদিকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অ্যালগরিদম নির্ভর সংবাদ পরিবেশনে মানবিক বিশ্লেষণের অভাব দেখা দেয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য সংবাদ দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার চাপ থাকে। এর ফলে অনেক সময় সংবাদ যাচাই না করেই প্রকাশিত হয়, যা ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক সংবাদমাধ্যম অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াই করছে। প্রিন্ট সাংবাদিকতার চাহিদা কমে যাওয়ায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও পর্যাপ্ত আয় নিশ্চিত করা কঠিন। পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনেক সময় সংবাদমাধ্যমগুলো অতিরঞ্জিত শিরোনাম বা ক্লিকবেট ব্যবহার করে। এটি সাংবাদিকতার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে।
সোশ্যাল মিডিয়া সাংবাদিকতার জন্য যেমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, তেমনি এটি সাংবাদিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও প্রায়ই তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আধুনিক পাঠকরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। সাংবাদিকতার প্রতি তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশা দ্রুত বদলাচ্ছে। এটি সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আধুনিক সাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জে পূর্ণ, তবে এই চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলার মধ্যেই এর উন্নতির পথ রয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, সত্যতা যাচাই, এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ববোধ ধরে রাখার মাধ্যমে সাংবাদিকতা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক : উজ্জ্বল হোসাইন, গণমাধ্যম সাংবাদিকতায় মাস্টার্স (ব্যাচ ২০২১), প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।