খুঁজুন
                               
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

স্মার্টফোন ভীষণ স্লো? যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
স্মার্টফোন ভীষণ স্লো? যা করবেন

হঠাৎ করেই স্মার্টফোন স্লো হয়ে যাচ্ছে? অ্যাপ খুলতে সময় নিচ্ছে, মাঝেমধ্যে স্ক্রিন কালো বা সাদা হয়ে যাচ্ছে? এমন সমস্যায় এখন প্রায় সব স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই কমবেশি ভুগছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কিংবা কিছু সাধারণ ভুলের কারণে ফোনের পারফরম্যান্স ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তবে ভালো খবর হলো, খুব সহজ কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই এই সমস্যা অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব। চলুন দেখে নেওয়া যাক, স্মার্টফোন দ্রুত ও স্মুথ রাখতে কী কী করবেন।
স্মার্টফোন ধীর গতিতে কাজ করা শুরু করলে সবার আগে ফোনে থাকা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ডিলিট করে দিন। অনেক সময় এমন বহু অ্যাপ ফোনে থাকে যেগুলো আমরা ব্যবহারই করি না, কিন্তু সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থেকে মেমোরি ও প্রসেসরের ওপর চাপ ফেলে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে দিলে ফোনের গতি অনেকটাই বেড়ে যায়।
যে অ্যাপগুলো নিয়মিত ব্যবহার করেন, সেগুলো সবসময় আপডেট রাখা খুব জরুরি। অ্যাপ আপডেটের মাধ্যমে নানা বাগ ঠিক করা হয় এবং পারফরম্যান্স উন্নত করা হয়। পুরোনো ভার্সনের অ্যাপ ব্যবহার করলে ফোন স্লো হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হ্যাং করার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
অ্যাপের পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাতারা সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ফোনের পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্ব বাড়ান। তাই নিয়মিত চেক করে দেখুন, ফোনে কোনো আপডেট পেন্ডিং রয়েছে কি না।
যদি প্রায়ই ফোন হ্যাং করে বা অ্যাপ খুলতে দেরি হয়, তাহলে ফোনের মেমোরি খালি রাখার চেষ্টা করুন। স্টোরেজ বেশি ভরে গেলে ফোন স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে পারে না। প্রয়োজন না হলে পুরনো ফাইল, ছবি বা ডকুমেন্ট মুছে ফেলুন অথবা ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখুন।
যারা ফোনে নিয়মিত ভারী কাজ করেন যেমন গেম খেলা, ভিডিও এডিটিং বা একসঙ্গে অনেক অ্যাপ ব্যবহার করেন তাদের জন্য একটি ফোনে সব কাজ করা চাপের হতে পারে। সম্ভব হলে আলাদা কাজের জন্য আলাদা ফোন ব্যবহার করাই ভালো, এতে ফোনের ওপর অতিরিক্ত চাপ কম পড়ে।
ফোন ব্যবহারের সময় একটু যত্নশীল হওয়াও জরুরি। একটি অ্যাপে কাজ শেষ হলে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু না রেখে বন্ধ করে দিন। এরপর নতুন অ্যাপ খুলে কাজ করুন। একসঙ্গে অনেক অ্যাপ খোলা থাকলে র‍্যাম ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে ফোন স্লো হয়ে যেতে পারে।
ফোনে অযথা প্রচুর ছবি, ভিডিও, গেম, সিনেমা বা গান ডাউনলোড করে রাখলেও সমস্যা তৈরি হয়। এগুলো স্টোরেজ ভরিয়ে দেয় এবং ফোনের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। তাই প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া অতিরিক্ত কিছু ডাউনলোড না রাখাই ভালো।

তারুণ্যের অগ্রদূতের ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
তারুণ্যের অগ্রদূতের ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক উদ্যোগ

যারা নীরবে প্রতিদিন আমাদের শহর ও জীবনকে সচল রাখেন—সেই শ্রমজীবী মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী একটি মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে সামাজিক সংগঠন তারুণ্যের অগ্রদূত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সংগঠনটির উদ্যোগে টোকেন উত্তোলনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল, মাছ, আটা, তেল, শীতকালীন সবজি, ডিম, বিস্কুট, চানাচুর, নুডলস, চিড়া ও মসুর ডাল।
আয়োজকরা জানান, বড়ো কোনো আয়োজন নয়—শ্রমের প্রতি সম্মান ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। দিনশেষে শ্রমজীবী মানুষগুলোর তৃপ্তির হাসিই তাদের সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তারুণ্যের অগ্রদূতের সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক অংগন চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসমা আক্তার, কার্যকরী সদস্য জান্নাতুল নাইমা জুহানীসহ সংগঠনের অন্য নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও সমাজের অবহেলিত ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইনে কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্যে!

কথিত সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি ফটোকার্ডের শিরোনাম :
১. সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করলেন ড. ইউনূস।
২. প্রবাসে থেকেই আমি নির্বাচনে অংশ নেব : তারেক রহমান।
৩. ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না দিলে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে আন্দোলন শুরু করব : সালাউদ্দিন।
৪. বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দিলে নির্বাচনে যাব না : জামায়াত আমির।
এর একটিও সত্য খবর নয় এবং যেসব মাধ্যমে এই খবরগুলো এসেছে, তার একটিও দেশের প্রচলিত সংবাদমাধ্যম নয়। এগুলোর নাম কামবেলা, প্রথম আলু, জনকষ্ট, চেন্নাই টোয়েন্টিফোর, জানিনা টিভি ইত্যাদি। অর্থাৎ মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অসংখ্য মানুষ তা বিশ্বাস করছে। কারণ প্রথম দেখায় এটা বুঝতে পারা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
শুধু তাই নয়, মূলধারার পত্রিকা বা টিভির হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনেও এরকম ভুল ও বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে মানুষ বিশ্বাস করছে। ভাইরাল হওয়ার পরে জানা যাচ্ছে সেটা ফেইক। অর্থাৎ ফেইক ফটোকার্ডের মহামারি শুরু হয়েছে—যা সমাজে তৈরি করছে অস্থিরতা। মূলধারার সংবাদমাধ্যম পড়ছে চ্যালেঞ্জের মুখে।
চ্যানেল ওয়ানের লোগো ও ডিজাইন কপি করে একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘জামাত শিবিরের গুপ্ত লীগ ওসমান হাদিকে গুলি করেছে।’ অথচ চ্যানেল ওয়ান এরকম কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। ‘বোনকে সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুলের জন্য দোয়া করলেন শেখ হাসিনা’—এই শিরোনামে একটি ফটোকার্ড বানানো হয়েছে প্রথম আলোর লোগো দিয়ে। এটিও ভুয়া। কিন্তু প্রথম দেখায় খুব কম লোকই এটাকে সন্দেহ করবেন। কালবেলা পত্রিকার হুবহু নাম, লোগো ও ডিজাইনে বানানো একটি ফটোকার্ডে প্রধান উপদেষ্টার উদ্ধৃতি নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই’। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন এ রকম অসংখ্য গুজব ও বিভ্রান্তি পরিবেশিত হচ্ছে সংবাদের মোড়কে। শুধু তাই নয়, এরকম ভুয়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারকারী কোনো কোনো পেইজ তাদের ফলোয়ার সংখ্যা বাড়লে সেটি নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেয়। যেমন জানিনা টেলিভিশনের লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে : জানিনা টেলিভিশন ১০ হাজারের পরিবার।
বলা হয়, বাংলাদেশে যত দ্রুত স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ হয়েছে, ওই তুলনায় যথেষ্ট পিছিয়ে আছে ডিজিটাল লিটারেসি। যে কারণে কোনটা খবর আর কোনটা গুজব; কোনটা জনকণ্ঠ আর কোনটা জনকষ্ট; কোনটা যমুনা টিভি আর কোনটা জানিনা টিভি—সেটি প্রথম দর্শনে অনেকেই ঠাওর করতে পারেন না। না পেরে তিনিও ওই ‘খবর’ বিশ্বাস করে নিজের ফেইসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনাই এভাবে বিভ্রান্তির মোড়কে ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ বা কোটি কোটি মানুষের মধ্যে। এটা এখন আর নিরব নয়, বরং সরব মহামারী। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একটি অবিশ্বাসী বা ‘ফেইক প্রজন্ম’।
অসংখ্য মানুষ ফেইসবুককে সংবাদমাধ্যম মনে করে। তারা পরস্পরের আলাপচারিতায় বলে, “দেখেন তো খবরটা ফেসবুকে দিছে কি না।” অথচ ফেসবুক যে খবরের জায়গা নয়, এই সাধারণ জ্ঞান ও কাণ্ডজ্ঞান তৈরির আগেই মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে ইন্টারন্টে সংযুক্ত স্মার্টফোন ও ফেসবুক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
মূলধারার টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের আদলে ডিজাইন করে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথম দেখায় এটা বোঝা কঠিন যে, আসলেই এসব ফটোকার্ড ভুয়া নাকি সঠিক।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করা তথা দৃশ্যত শিক্ষিত মানুষজনও কোনটা খবর, কোনটা বেখবর, কোনটা প্রোপাগান্ডা, কোনটা গুজব—সেটি বুঝতে পারে না। পারার কথাও নয়। কারণ এই শিক্ষাটা তিনি পাননি। যে কারণে ফেসবুকে কে কী লিখলেন, কে প্রোফাইল লাল বা কালো করলেন, কে কার ছবিতে লাইক ও কমেন্ট করলেন—এসব দিয়েই একজন মানুষ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অথচ ফেসবুক পোস্ট বা কমেন্টই যে একজন মানুষকে বোঝা বা তাকে বিচার করার একমাত্র উপায় নয়; বরং ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও যে প্রত্যেকের একটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবন রয়েছে; ফেসবুকের বাইরেও যে তিনি আরেকজন স্বতন্ত্র মানুষ—ওই চিন্তাটা অনেকেই করেন না। করতে চান না।
প্রায়শই অফিসের লিফটে খেয়াল করি, শিক্ষিত সচেতন বলে মনে হয় এমন মানুষেরাও মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে স্ক্রল করতে করতে এসব বিভ্রান্তিকর খবর, গুজব ও ফেইক ফকোটকার্ড বিশ্বাস করে আরেকজনকে বলছেন। যার সঙ্গে বলছেন তিনিও বিশ্বাস করছেন। কিন্তু কালবেলা যে কামবেলা, আর যমুনা টিভি যে আনোয়ার টিভি হয়ে গেছে, সেটা হয়তো অনেকেই খেয়াল করছেন না বা এটুকু খেয়াল করার মতো সচেতনতাও হয়তো তার নেই। সমাজের শিক্ষিত মানুষের যখন এই দশা, তখন ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী একজন দিনমজুর বা কম পড়ালেখা জানা মানুষের বিভ্রান্ত হওয়া কতটা সহজ—তা সহজেই অনুমেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার শেয়ার করা বিভ্রান্তিকর, অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ কনটেন্টের আরেকটা বড় সমস্যা হলো, কোনো একজন ব্যক্তির অনেক কথার মাঝখান থেকে একটি বা দুটি লাইন নিয়ে কনটেন্ট বানিয়ে সেটি ছড়িয়ে দেয়া হয়। তার ফলে ওই বক্তব্যের আগে পরে কী আছে, সেটা মানুষ জানে না। অনেক সময় কারও বক্তব্যের খণ্ড খণ্ড অংশ জোড়া দিয়ে এমন একটি বাক্য তৈরি করা হয়, যে কথা আদৌ ওই ব্যক্তি বলেননি। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্টজন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। ফলে ওইসব বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই প্রবণতা শুধু ভুয়া সংবাদমাধ্যমের নয়, বরং অনেক সময় কোনো কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এইধরনের কাটপিস তৈরি করে বেশি ভিউয়ের নেশায়।
কোনো সমাজে যখন খবর আর গুজব এক হয়ে যায়, যখন সমাজের বিরাট অংশের মানুষ গুজবকে খবর বলে বিশ্বাস করে, তখন সেখানে প্রথম চোটে মার খায় ইথিক্যাল জার্নালিজম বা নীতিবান সাংবাদিকতা। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে যখন সকল সত্যকেই মিথ্যা এবং সকল মিথ্যাকেই সত্য বলা হয়, তখন মানুষ সবই বিশ্বাস করে এবং সবই অবিশ্বাস করে। সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ কিংবা বিরোধী দল থেকে উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে জামায়াতের দাবিসম্বলিত ফটোকার্ডকেও মানুষ সংবাদ বলে মনে করে এবং সেটি  চায়ের দোকানে, অফিসে বা সামাজিক আলাপচারিতায় আলোচিত হয়।
এই প্রবণতার পেছনে রয়েছে ভিউ বাণিজ্য। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো পেইজ মনিটাইজড হয়ে গেলেই সেখান থেকে টাকা আসে, আর যে কনটেন্টের যত বেশি ভিউ তত বেশি টাকা, অতএব ভিউয়ের নেশায় ছুটছে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এটা ঠিক যে, ভিউয়ের নেশায় মূলধারার সংবাদমাধ্যমও পিছিয়ে নেই। অনেক পত্রিকা ও টেলিভিশনও চটকদার শিরোনাম আর বিভ্রান্তির খবর পরিবেশ করে বেশি ভিউয়ের আশায়। যার ফলে যেসব সংবাদমাধ্যম প্রকৃতই বস্তুনিষ্ঠ ও ইথিক্যাল জার্নালিজমের চর্চা করে, তারা অনেক সময় বাণিজ্যিকভাবে পিছিয়ে পড়ে। ফলে একসময় তারাও এই ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়।
শুধু সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডই নয়, বরং রাজনৈতিক দলের প্যাডে কোনো ঘোষণা বা বার্তা দিয়ে সেগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। যেমন গত বছরের ১১ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল তার স্বাক্ষর জাল করে ফেসবুকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছে, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
যদিও সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলোর মধ্যে কোনটি আসল আর কোনটি ফেইক, সেটি বোঝা হয়তো খুব কঠিন নয়। একটু ভালো করে কার্ডগুলো খেয়াল করলে হয়তো এর ফাঁকফোকর ধরা সম্ভব। কিন্তু সেই ন্যূনতম সচেতনতার বোধ কত শতাংশ মানুষের আছে সেটি যেমন প্রশ্ন, তেমনি মানুষ আদৌ ফটোকার্ডের সত্যমিথ্যা যাচাই করতে চায় কি না, সেটিও প্রশ্ন। কেননা, বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ফটোকার্ডগুলো বানানো হয় মানুষ যা শুনতে চায়, এমন সব বিষয়ে। ফলে সে যখন ভুল ও ভুয়া খবরও দেখে, সে এটা এনজয় করে। শেয়ার করে। কিন্তু তার এই মেনে নেয়া ও নির্ভারতাই ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ বাড়াতে সহায়তা করে। মানুষের এই বোকামি, উন্মাদনা, উন্নাসিকতা, অশিক্ষা ও অসচেনতনার সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ টাকা কামাচ্ছে। অন্যদিকে সমাজে বাড়ছে বিভ্রান্তি। বিভেদ।
গত ১৫ নভেম্বর বিবিসির সাংবাদিক মিজানুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, এআই দিয়ে তো আজকাল সবই করা সম্ভব। একটা স্টিল ছবি দিলে ভিডিও বানিয়ে দেয়। এমনকি, ব্যাংক নোটে দোয়েল পাখির ছবি পাখা ঝাপটায়, কৃষকরা পানিতে পাট ধুয়ে নেয়! এসব দেখতে দেখতে ভাবি, কী এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎই না অপেক্ষা করছে এই মানবজাতির জন্য। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই। ভালো হোক মন্দ হোক এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে নিতেই হবে। আর পেছনে ফেরা যাবে না। মানুষ যদি এই প্রযুক্তিকে ঠিকভাবে ব্যবহার করে, তাহলে সভ্যতার আরও উন্নতি হবে। সেরকম না হলে এই এআই-এর কাছেই পরাজয় ঘটবে মানুষের। (সূত্র : বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কম)

জিমেইলে এআই যুক্ত করলো গুগল, ইমেইল ব্যবহারে আসছে বড় পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জিমেইলে এআই যুক্ত করলো গুগল, ইমেইল ব্যবহারে আসছে বড় পরিবর্তন

ইমেইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে জিমেইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করেছে গুগল। ‘জেমিনি’ নামের এই এআই সহকারীর মাধ্যমে এখন ইমেইল খোঁজা, করণীয় কাজ চিহ্নিত করা এবং দ্রুত উত্তর লেখার মতো কাজ আরও সহজ করে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে আধুনিক এই সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, ধাপে ধাপে জিমেইলে এআইভিত্তিক ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এসব সুবিধার রোলআউট শুরু হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো— ক্রমেই বড় হয়ে ওঠা ইনবক্স সামলানো সহজ করা এবং ইমেইল ব্যবহারে সময় ও শ্রম কমিয়ে আনা।
এই নতুন ফিচারগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি। মানুষের ভাষা বোঝা ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা থাকা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জেমিনি ব্যবহারকারীর ইমেইল পড়তে ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বের করতে পারবে। ফলে ইনবক্সে থাকা শত শত মেইলের ভিড় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া হবে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারী প্রশ্নের আকারে ইমেইল সার্চ করতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি লেখেন— “গত মাসে চাকরি নিয়ে যার সঙ্গে কথা হয়েছিল, তার নাম কী?” তাহলে জেমিনি সময়, প্রসঙ্গ এবং কথোপকথনের ধরণ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ইমেইলটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। সাধারণ কিওয়ার্ড সার্চের তুলনায় এই পদ্ধতি অনেক বেশি স্মার্ট ও কার্যকর বলে দাবি গুগলের।
এ ছাড়া গুগল একটি নতুন ধরনের ইনবক্স চালুর পরিকল্পনাও করছে, যা বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এই ইনবক্স ইমেইলের ভেতরে থাকা করণীয় কাজগুলো শনাক্ত করবে এবং সেগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি টু-ডু লিস্ট তৈরি করবে। ফলে আলাদা করে নোট নেওয়া বা অন্য অ্যাপে কাজের তালিকা লেখার প্রয়োজন কমে আসবে। গুগলের আশা, বছরের শেষ দিকে এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাবে।
ইমেইল লেখার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন এআই টুলে থাকছে স্বয়ংক্রিয় প্রুফরিডিং সুবিধা, যা বানান ও ভাষাগত ভুল ধরিয়ে দেবে। পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক উত্তর সাজেস্ট করার অপশনও থাকবে। ব্যবহারকারী চাইলে সেই উত্তর হুবহু পাঠাতে পারবেন অথবা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পাদনা করে নিতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, এসব ফিচারের কিছু অংশ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে। তবে আরও উন্নত ও শক্তিশালী সুবিধা পেতে সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। কোন কোন ফিচার ফ্রি থাকবে আর কোনগুলো পেইড হবে—সে বিষয়ে ধাপে ধাপে বিস্তারিত জানানো হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইমেইল ব্যবহারের অভ্যাসে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এত দিন ব্যবহারকারীদের বারবার ইনবক্স খুলে গুরুত্বপূর্ণ মেইল খুঁজে বের করতে হতো। এখন পুরো ইনবক্সের একটি সারসংক্ষেপ পাওয়া সম্ভব হবে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ দ্রুত চোখে পড়বে এবং অপ্রয়োজনীয় মেইল এড়িয়ে চলা সহজ হবে।
তবে এআই ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এসব সুবিধা দিতে হলে জেমিনিকে ব্যবহারকারীর ইনবক্সে প্রবেশাধিকার দিতে হবে, যা ব্যক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের প্রশ্ন তুলে দেয়। গুগলের দাবি, এআই ইমেইল বিশ্লেষণ করলেও কোনো মানব কর্মী ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মেইল পড়েন না। পাশাপাশি তথ্য সুরক্ষায় আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবু গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, এত বড় পরিসরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বিশ্লেষণ করা হলে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি প্রতিবেদক ব্রায়ান এক্স চেন এক সপ্তাহ ধরে এআই-যুক্ত জিমেইল ব্যবহার করে দেখেছেন। তার অভিজ্ঞতায়, স্বয়ংক্রিয় করণীয় তালিকা তৈরির ফিচারটি বেশ কার্যকর। তবে ইমেইল লেখার গতি বাড়ানোর টুলগুলো এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে, জিমেইলে এআই যুক্ত হওয়ায় ইমেইল ব্যবহারে নতুন দিগন্তের সূচনা হলেও গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে।