খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩২

সাংবাদিকতায় মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকতায় মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া

অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং পেশার প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলে কোনো বাধাই শেষ পর্যন্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না—এ কথারই বাস্তব প্রতিফলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক সাফল্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে মাস্টার্স পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তার এই অর্জনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সমাজে আনন্দের বন্যা বইছে।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই অর্জন কেবল একটি একাডেমিক ফলাফল নয়; এটি এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং নির্ধারিত সময়ে সবকিছু সম্পন্ন করা—এসবই তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। মাঠপর্যায়ে কাজের চাপ, সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময়ই ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষাজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করেই তিনি নিজের লক্ষ্য অর্জন করেছেন।
নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই বয়সে এসে সহপাঠীদের সঙ্গে বসে পড়াশোনা করা সহজ ছিল না। সুদূর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে ক্লাস করা আমাদের জন্য সত্যিই কষ্টকর ছিল। প্রতিটি ক্লাসের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো, অনেক সময় ক্লান্তি ভর করতো। তবুও শেখার আগ্রহই আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়েছে।
তার এই বক্তব্যে উঠে আসে একজন সংগ্রামী শিক্ষার্থীর বাস্তব চিত্র। ভোরে রওনা দিয়ে রাজধানীতে ক্লাস করা, আবার রাতে ফিরে যাওয়া—এই চক্রের মধ্যেই কেটেছে তার শিক্ষাজীবনের বড় একটি অংশ।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। তাই নিজেকে দক্ষ ও আপডেট রাখতে পড়াশোনার বিকল্প নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিআইবির এই কোর্সটি তাকে সাংবাদিকতার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। সংবাদ লেখার কৌশল, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নৈতিকতা, ডিজিটাল সাংবাদিকতা—এসব বিষয়ে তিনি নতুন করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের অবদান গভীরভাবে স্মরণ করেছেন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক পঙ্কজ কর্মকার, মুনিরা শারমিন, শুভ কর্মকার, লাজিনা জাসলিনসহ প্রেস ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষককে। তাদের দিকনির্দেশনা, আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন শিক্ষকদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা তাকে প্রতিটি ধাপে সাহস জুগিয়েছে। কঠিন বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের আন্তরিক আচরণ তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
শিক্ষাজীবনের এই পথচলায় সহপাঠীদের ভূমিকাও কম নয়। নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে একটি চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করেছি, একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি। বিশেষভাবে প্রিয় সহপাঠী উজ্জ্বল হোসাইন ও মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের কথা উল্লেখ করতে চাই, যারা সবসময় পাশে ছিল। তিনি জানান, ক্লাসরুমের আলোচনা, গ্রুপ স্টাডি, পরীক্ষা প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই সাফল্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার এই অর্জনকে পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য বলেন, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া সবসময় নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তার এই একাডেমিক সাফল্য প্রমাণ করে, তিনি নিজেকে আরও উন্নত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।
এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পড়াশোনা, ক্লাসে অংশগ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে পরিবারের সহযোগিতা তাকে মানসিকভাবে শক্তি জুগিয়েছে। তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যরা সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাদের সমর্থন না থাকলে এই পথচলা এত সহজ হতো না। এই অর্জন তার পেশাগত জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এই কোর্স আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এখন আমি আরও দায়িত্বশীলভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করতে পারবো। তিনি ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন তৈরিতে আরও মনোযোগী হতে চান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তরুণ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নেই। পেশার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে, সত্যের প্রতি অটল থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বপূর্ণ পেশা, যেখানে সততা, নৈতিকতা এবং সাহসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কর্মজীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং দূরপাল্লার যাত্রার ক্লান্তি—সবকিছু অতিক্রম করে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তা প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।
তার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি গর্বের বিষয়। বিশেষ করে যারা কর্মজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার এই গল্প একটি শক্ত প্রেরণা হয়ে থাকবে। স্বপ্ন দেখুন, পরিশ্রম করুন—সাফল্য আসবেই—এই বিশ্বাসকেই নতুন করে দৃঢ় করেছে তার এই অর্জন।

মালদ্বীপে বহুতল ভবন থেকে পড়ে চাঁদপুরের হানজালার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ
মালদ্বীপে বহুতল ভবন থেকে পড়ে চাঁদপুরের হানজালার মৃত্যু

মালদ্বীপের রাজধানী মালের মাফানু এলাকায় বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বাংলাদেশি প্রবাসী হানজালা শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে মাফানু এলাকার একটি বহুতল ভবনের ছাদে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রতিদিনের মতো ওই ভবনের ছাদে থাকা গাছের পরিচর্যা করছিলেন হানজালা। এ সময় দড়ি বাঁধতে গিয়ে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পাশের টিনশেড বিশিষ্ট একতলা ভবনের ওপর পড়ে যান তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত হানজালা চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ড মীনাপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল সামাদের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় সাত মাস আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। শুক্রবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছিল। এদিকে, হানজালার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার চাচাত ভাই মাসুদ জানান, ঋণ করে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। এখন তার লাশ দেশে নেওয়া এবং অন্যান্য খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এ জন্য পরিবারটি বাংলাদেশ সরকার, মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন জেডি ভ্যান্স

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, কোনো চুক্তি ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন জেডি ভ্যান্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা পরমাণু বিষয়ক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। টানা ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পর কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তসমূহ গ্রহণ না করায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গণমাধ্যমকে জানান, পাকিস্তান সরকারের আতিথেয়তায় দুই দেশের প্রতিনিধি দল দীর্ঘ সময় ধরে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েছে। আলোচনার এই ব্যর্থতার জন্য আয়োজক দেশ পাকিস্তানকে দায়ী করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান চমৎকার কাজ করেছে। তারা আমাদের এবং ইরানিদের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আমরা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে তাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছি। এটি একটি ইতিবাচক দিক যে আমরা সরাসরি কথা বলেছি।’
তবে সমঝোতা না হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য বড় দুঃসংবাদ হিসেবে দেখছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়ে স্পষ্ট ছিলাম। কোন বিষয়ে আমরা ছাড় দেব এবং কোন বিষয়ে দেব না, তা তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরানি পক্ষ আমাদের শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আলোচনায় কোন বিষয়গুলো ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও ভ্যান্স প্রধান লক্ষ্যটি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ‘আসল কথা হলো, আমাদের এমন একটি ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন যে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র দ্রুত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও তারা জোগাড় করবে না। এটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে এটিই অর্জনের চেষ্টা করেছি।’
ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের যে সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো আগে ছিল, সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইরান কি দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো মৌলিক প্রতিশ্রুতি দেবে? শুধু এখন বা দুই বছরের জন্য নয়, দীর্ঘস্থায়ী সদিচ্ছার প্রমাণ আমরা এখনো তাদের কাছ থেকে পাইনি। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সেটি পাব।’
জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন সদুদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনার টেবিলে যেতে এবং একটি চুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে। আমরা সেটিই করেছি, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা আমাদের শর্ত গ্রহণে রাজি ছিল না।’
উল্লেখ্য, ২১ ঘণ্টার এই ম্যারাথন আলোচনার পুরো সময়জুড়েই মার্কিন প্রতিনিধি দলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছে। ভ্যান্সের ভাষ্যমতে, ‘গত ২১ ঘণ্টায় আমরা অন্তত ১২ বার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা একটি চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব দিয়ে এসেছি। এখন দেখার বিষয় ইরানিরা শেষ পর্যন্ত সেটি গ্রহণ করে কি না।’

সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক কি টিকবে?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক কি টিকবে?

অধ্যাদেশ তৈরি করে পাঁচ দুর্বল শরিয়া ব্যাংক-কে একত্রিত করে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক করেছিল অধ্যাপক ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার। যদিও ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার পর এর চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন, আর এমডি যোগদানই করেননি,তবুও লাখ লাখ গ্রাহকের প্রত্যাশা ছিল তাদের অর্থ ফেরত পেতে এই ব্যাংকটি হয়তো ভূমিকা রাখবে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই ব্যাংকটি বড় অনিশ্চয়তায় পড়ল। কারণ, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় প্রণিত ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন অর্ডিনেন্স’ সংশোধন করেছে বর্তমান সরকার। এর মাধ্যমে বর্তমানে পুনর্গঠনাধীন সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর ওপর সাবেক মালিকদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরে পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি হয়েছে।
সংশোধনীটি বিশেষভাবে পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের চলমান একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। এই ব্যাংকগুলো হলো – ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এগুলোকে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের অংশ হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে একীভূত করা হচ্ছিল। এখন তা আর থাকছে না বলেই মনে হচ্ছে।
শুক্রবার সংসদে পাস হওয়া নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে তাদের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অধিগ্রহণ করতে পারবেন। এতে নবগঠিত সম্মিলিত ব্যাংক ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংকটাপন্ন পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে চারটি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল,আর এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে।
কী সেই শর্ত
১৮ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি সংশোধন করেছে সরকার। এই ধারায় বলা হয়েছে, রেজোলিউশনের তালিকাভুক্ত কোনো ব্যাংকের আগের মালিকরা ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনঃঅধিগ্রহণের জন্য রেজোলিউশন কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন।

পুরনো মালিকদের ফিরতে হলে আবেদনের সঙ্গে আলাদা একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। এতে উল্লেখ করতে হবে, তারা সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সব অর্থ পরিশোধ করবে, নতুন মূলধন যোগান দেবে এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

এছাড়া তারা আগের সব আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় শোধ করবে, সরকারের কর ও রাজস্ব পরিশোধ করবে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন করবে।আবেদন মঞ্জুরের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই করে সরকারের অনুমোদন নেবে। আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের তিন মাসের মধ্যে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত অর্থের অন্তত সাড়ে সাত শতাংশ পে-অর্ডার দিতে হবে। বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।
সরকার বলছে এটি বাজারভিত্তিক সমাধান। তবে আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মাঝে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচটি ব্যাংক রেজোলিউশনের মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কাজ চলছিল। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে বিল পাস করায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক টিকবে না।
একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের অর্থের পরিমাণ হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রথম তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে এবং বাকি অর্থ পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সরল সুদে পরিশোধ করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন সহজ শর্তের কারণে আগের মালিকরা অবশ্যই তা বাস্তবায়নে রাজি হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কী হবে?
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক টিকবে কি না তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে পাঁচ ব্যাংকের আগের মালিকদের ওপর। যারা পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানায় আসবে, তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। তারা যদি মনে করেন আগের মতো পাঁচটি ব্যাংক আলাদাভাবে পরিচালনা করবেন, তাহলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আর টিকবে না। আর যদি সবাই মিলে একটি ব্যাংক হিসেবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি টিকে থাকতে পারে।