খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

নবনির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ আজ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
নবনির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ আজ

দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। এদিন সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। একই দিনে বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথগ্রহণ করবেন। সাধারণত বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হলেও এবার প্রথা ভেঙ্গে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত মঞ্চে এই আয়োজন করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ত্যাগ ও স্মৃতির কেন্দ্রবিন্দু। এখানেই ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এই দক্ষিণ প্লাজাতেই সম্পন্ন হয়েছিলো। এসব আবেগ ও স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের জন্যে এই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ইতোমধ্যে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এস এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন। বর্তমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন। শপথের পর সংসদ সদস্যরা খাতায় স্বাক্ষর করবেন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
শপথ গ্রহণের পর দুপুর ১২টায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং তিনি তাঁর মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। বিকেল ৪টায় উৎসবমুখর পরিবেশে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ৭৭টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে জামায়াতে ইসলামী জোট। অন্যদিকে, অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি ৮টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
নতুন সরকারের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিলুপ্তি ঘটবে।
আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সমন্বিতভাবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন করছে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।  নতুন সরকারে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও কেনাইনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট।
শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় এরই মধ্যে দক্ষিণ প্লাজাজুড়ে সুইপিং করেছে বোম্ব ডিস্পোসাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে অবস্থান করছেন গোয়েন্দারা। সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা। এছাড়াও স্ট্যান্ডবাই থাকবে বিশেষায়িত সব ইউনিট।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বাসা থেকে সংসদের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওনা দেয়ার সময় থেকেই দেয়া হবে নিরাপত্তা। প্রটোকলের জন্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশত গাড়ি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আনা-নেয়া থেকে শুরু করে রুটকেন্দ্রিক এবং সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’
শপথ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় থাকবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। কোনো শঙ্কা না থাকলেও নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। -দেশ রূপান্তর।

কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা, আলোচনায় কারা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
কেমন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা, আলোচনায় কারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কাদের নাম থাকছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখন ব্যস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অভিজ্ঞ ও দক্ষ তারুণ্যের মিশ্রণে এবারের মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাই নজরুল ইসলাম খান নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকছেন, এ আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে আছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও আলোচনায় আছে। জাহিদ হোসেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন ছিলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের বড়ো উদ্যোক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত। তাঁরা মন্ত্রিসভার নতুন মুখ হতে পারেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদের দুজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। তাঁরা নির্বাচন করেননি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কথা ভাবা হচ্ছে, যিনি দলের বিভিন্ন নীতি-গবেষণার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্যে বিগত সময়ে দায়িত্বে ছিলেন, এমন কারও কারও নামও আলোচনায় আছে।
নারীদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে একাধিক জনকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সংখ্যালঘু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও মন্ত্রিসভায় একাধিক জনকে রাখা হবে। এই ক্ষেত্রে একজন প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য এলাকার একজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
এবারের মন্ত্রিসভায় ১০ থেকে ১৫ তরুণ মুখ ঠাঁই পেতে পারেন। তাঁদের মধ্যে পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন, অপেক্ষাকৃত বিতর্ক কম ছিলো—এমন ব্যক্তিরাও কেউ কেউ নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।
বিগত যুগপৎ আন্দোলনের সময় মিত্র দলগুলোকে নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি ছিলো বিএনপির। মিত্র বা শরিক দলগুলো থেকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন তিনজন নেতা। এর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর আন্দালিভ রহমান পার্থকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হয়েছেন। তাঁদের নামও আলোচনায় আছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভা খুব বড়সড় না করার চিন্তা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কলেবর একটু বড়ো হতে পারে। একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা অন্য কোনো নামে অনেককে যুক্ত করা হতে পারে। যার মধ্যে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকে কাজ করা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা একাধিক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার বিদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও আছেন, এমন একজনের নামও আলোচনায় আছে।
নতুন সংসদ, নতুন সরকার—এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দিকে। এখন সবার নজর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার দিকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র : প্রথম আলো।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যারা থাকতে পারেন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যারা থাকতে পারেন

বিএনপি রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আর এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত। কিন্তু তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে এবং কারা থাকছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এতে বিগত বিএনপি সরকারের (২০০১ থেকে ২০০৬) মন্ত্রিসভার সদস্যরা যেমন স্থান পেতে পারেন, তেমনি একেবারে নবীন, অর্থাৎ প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন– এমন ব্যক্তিদেরও রাখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে নতুন মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, কাকে কোন মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে– সেসব আজ রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে।
চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসতে যাওয়া বিএনপি জোট ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয়ের পর যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মন্ত্রিসভায় রাখা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তবে বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় সরকার গঠন করলে সেখানে যুগপৎ আন্দোলনের সব শরিককে রাখবে নাকি শুধু নির্বাচনী জোটে যারা ছিল তারা স্থান পাবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী দিনের মন্ত্রিসভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমানকে রাখা হতে পারে। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
নবীনদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ আরও বেশকিছু নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের মন্ত্রিসভায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানা গেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিএম থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে আসা শাহাদাত হোসেন সেলিম, নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। মন্ত্রিসভার বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীসহ সেক্টরভিত্তিক বিভিন্ন পদে অনেকে পদ পাবেন নতুন সরকারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হতে যাচ্ছে তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

মঙ্গলবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি-মন্ত্রীদের শপথ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
মঙ্গলবার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি-মন্ত্রীদের শপথ

রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একইস্থানে বিকেল ৪টায় শপথ নেবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এখনো প্রস্তুত নেই। সেজন্য এ মুহূর্তে তিনি সেখানে উঠতে পারছেন না।
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দেওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে উঠতে হবে। তবে কোথায় হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন, এটি নতুন সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তিন মেয়াদে গণভবনে থেকেছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করে অন্তর্বর্তী সরকার। শিগগিরই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।