খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ, ১৪৩২

এআই দিয়ে চুপিসারে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিডিও এডিট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
এআই দিয়ে চুপিসারে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিডিও এডিট

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের অনুমতি ছাড়াই কিছু ভিডিওতে গোপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিবর্তন এনেছে ইউটিউব। বিষয়টি নজরে আসার পর সৃষ্ট হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ। অনেক ইউটিউবার বলছেন, ভিডিওগুলো দেখতে এখন এমন লাগছে যেন বাস্তবতা নয়, কোনো এআই কনটেন্ট।
মার্কিন ইউটিউবার রিক বিআটো বললেন, ‘আমি ভাবলাম, আমার চুলটা কেমন অদ্ভুত লাগছে, আর মুখটাও যেন কেউ মেকআপ করে দিয়েছে।’ ভিডিওর সূক্ষ্ম পরিবর্তন বুঝতে তাঁর সময় লেগেছে। উল্লেখ্য, বিআটোর চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউটিউব চুপিচুপি কিছু ভিডিওতে এআই ব্যবহার করে শার্টের ভাঁজকে আরও স্পষ্ট, ত্বককে কোথাও আরও মসৃণ আবার কোথাও আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে। কারও কারও কান লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সেগুলো কিছুটা বিকৃত। এ পরিবর্তন এতটাই সূক্ষ্ম যে আলাদা করে না দেখলে বোঝা যায় না।
সংগীতভিত্তিক আরেক জনপ্রিয় ইউটিউবার রেট শুলও তাঁর ভিডিওতেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যতই দেখছি, ততই বিরক্ত লাগছে। আমি চাইলে নিজের মতো করে ভিডিও শার্প বা স্পষ্ট করতে পারতাম। ভিডিওগুলো দেখলে মনে হয় এআই দিয়ে তৈরি। আমার দর্শকদের সঙ্গে আমার যে বিশ্বাসের সম্পর্ক, এটা তা ক্ষুণ্ন করছে। এটা আমাকে ভীষণভাবে বিরক্ত করছে।’
এমন অভিযোগ শুধু বিআটো বা শালের নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত জুন থেকেই এমন অভিযোগ উঠে আসছে। কেউ কেউ কাছ থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে দেখিয়েছেন, তাঁদের মুখের বা শরীরের অংশ কেমন যেন বিকৃত। তখনো নিশ্চিত ছিল না, ইউটিউব কি আসলেই কিছু করছে কি না।
অবশেষে বিষয়টি স্বীকার করেছে ইউটিউব। তারা বলছে, শুধু ইউটিউব শর্টসের কিছু ভিডিওতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক্স-এ দেওয়া পোস্টে ইউটিউবের সম্পাদকীয় ও নির্মাতা লিয়াজোঁ প্রধান রেনে রিচি লেখেন, ‘আমরা কিছু ইউটিউব শর্টসে প্রচলিত মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ভিডিও প্রসেসিংয়ের সময় আনব্লার, ডিনয়েজ এবং ক্ল্যারিটি উন্নত করার পরীক্ষা চালাচ্ছি। স্মার্টফোনে যেভাবে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় প্রক্রিয়াকরণ হয়, বিষয়টি অনেকটা সেরকম।’
তবে ইউটিউব বিবিসির প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট করে বলেনি, নির্মাতাদের সম্মতি ছাড়া এআই ব্যবহারের বিষয়টি ভবিষ্যতেও চলবে কি না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা সাধারণ স্মার্টফোন প্রসেসিংয়ের মতো নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজইনফরমেশন স্টাডিজের অধ্যাপক স্যামুয়েল উলি বলেন, ‘স্মার্টফোনে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কোন ফিচার চালু রাখবেন। তবে এখানে দেখা যাচ্ছে, ইউটিউব নির্মাতাদের না জানিয়ে এবং অনুমতি না নিয়েই তাদের কনটেন্ট পরিবর্তন করছে। এটা দর্শকদের সামনে এমন এক বাস্তবতা হাজির করছে যা নির্মাতার ইচ্ছার প্রতিফলন নয়।’
তিনি বলেন, ইউটিউবের পক্ষ থেকে ‘মেশিন লার্নিং’ শব্দটি ব্যবহার করার মধ্যেও কৌশল রয়েছে। কারণ, মেশিন লার্নিং আসলে এআই-এরই একটি উপধারা। ইউটিউব হয়তো ‘এআই’ শব্দটি ব্যবহার না করে আতঙ্ক এড়াতে চেয়েছে।
রিচি আরও বলেন, তারা মূলত জেনারেটিভ এআই নয়, বরং প্রচলিত মেশিন লার্নিং ব্যবহার করছে। তবে অধ্যাপক উলি বলেন, এ দুইয়ের ব্যবধান এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূল বিষয় হলো—ইউটিউব এমন কিছু পরিবর্তন করছে, যা দর্শক বা নির্মাতাদের অজান্তেই বাস্তবতাকে বদলে দিচ্ছে।
এটা শুধু ইউটিউব নয়। ২০২৩ সালে স্যামসাং ধরা পড়ে, তারা নাকি চাঁদের ছবি এআই দিয়ে উন্নত করছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি স্বীকার করে এবং প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে একটি ব্লগপোস্ট প্রকাশ করে।
এদিকে, গুগল পিক্সেল ফোনের ‘বেস্ট টেক’ ফিচার তো আরও এগিয়ে গেছে। একাধিক গ্রুপ ছবির মধ্যে সব মানুষের সবচেয়ে সুন্দর এক্সপ্রেশনগুলো বেছে নিয়ে একটি ‘আদর্শ মুহূর্ত’ তৈরি করে দেয়—যা বাস্তবে কখনো ঘটেনি। এমনকি পিক্সেল ১০–এর একটি ফিচার জেনারেটিভ এআই দিয়ে ১০০ গুণ পর্যন্ত জুম করতে পারে। যেটা ক্যামেরার প্রকৃত সীমা ছাড়িয়ে যায়।
এই প্রযুক্তিগুলোর ফলে প্রশ্ন ওঠে, আজকের ছবি বা ভিডিও আসলে কী তুলে ধরে?
প্রযুক্তি বিশ্লেষক উলি বলছেন, এটি নতুন কিছু নয়। ৩০ বছর আগে ফটোশপ যখন জনপ্রিয় হচ্ছিল, তখনো এমন উদ্বেগ ছিল। এরপর এসেছে এয়ারব্রাশিং, বিউটি ফিল্টার—সবই একরকম বাস্তবতার বিকৃতি।
গুগলের প্রকৌশলীরা বিষয়টি উপলব্ধি করছেন বলেই সম্ভবত পিক্সেল ১০ ফোনে নতুন কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়াল যুক্ত করা হয়েছে—যা এআই ব্যবহৃত হলে ছবিতে ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক বা জলছাপ দিয়ে তা জানিয়ে দেয়।
তবে নির্মাতাদের না জানিয়ে ভিডিও বদলে ফেলার ইউটিউবের এই সিদ্ধান্ত অনলাইন কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
উলি বলেন, ‘এটি দেখায়, কীভাবে এআই ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠছে, আমাদের বাস্তবতার পর্দা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মানুষ তো এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট নিয়ে সন্দিহান। এখন যদি জানতে পারে, কোম্পানিগুলোও ওপর থেকে কনটেন্ট পরিবর্তন করছে, নির্মাতাদের না জানিয়ে—তাহলে বিশ্বাস কোথায় থাকবে?’
তবে সবাই আবার এ নিয়ে বিরক্ত নন। রিক বিআটো বলেন, ‘শোনো, ইউটিউব তো সব সময় নতুন কিছু নিয়ে কাজ করে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তারা সেরা মানের কোম্পানি। ইউটিউব আমার জীবন বদলে দিয়েছে।’

কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি

কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। গত কয়েক দিন থেকে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও নেই উত্তাপ।হাসপাতাল গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সোমবার (১২জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিকে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে উত্তরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। হাসপাতালে আসা চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকার খলিল মিয়া বলেন, আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়েরি তাই ভর্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার হোটেল শ্রমিক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল বেলা ঠান্ডা ও শীতে বাড়িত থাকি বের হওয়া যায় না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায়, দুস্থ মানুষদের মধ্যে কম্বল বিতরণ চলমান রয়েছে। রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ইরান অশান্ত, ইসরায়েলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই জারি করা হয়েছে এ সতর্কতা। ইসরায়েলের সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর মধ্যে টেলিফোনে বৈঠক হয়েছে। মূলত ইরান পরিস্থিতিই ছিল সেই ফোনালাপের একমাত্র বিষয়বস্তু। তবে সরকারি সূত্রের বরাতে নেতানিয়াহু-রুবিওর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আগের দিন শুক্রবার মার্কিন দৈনিক দ্য ইকোনমিস্টকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে ইরান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমার মনে হয় কোনো ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত হবে ইরানে কী ঘটছে, তা দেখা। গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে। এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার এবং গতকাল শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানের বিক্ষোভকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।
তবে ইরানের চিরশত্রু হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এই বিক্ষোভ নিয়ে কোনো বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত জুন মাসে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল ও ইরান। টানা ১২ দিন সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সেবার।

লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাস সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি, দশ ডিলারের জরিমানা

রায়পুরসহ লক্ষ্মীপুর জেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের গড়ে তোলা সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় থামছে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৫টায় রায়পুর শহরের প্রধান সড়কে তিনটি ও সদরের দক্ষিণ বাজারের গোডাউন এলাকায় ৪টি অভিযানে সাতটি মামলায় মোট দশ ডিলারকে ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।পৃথক এই অভিযান পরিচালনা করেন রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও নিরুপম মজুমদার। ভোক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্যে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘টিভিতে দামের ঘোষণা শুনি, কিন্তু দোকানে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যায় না।’ ক্রেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে হলেও সহজে গ্যাস পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন।’ খুশবু আক্তার বলেন, ‘তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম নিতে বাধ্য করছে।’
পরিবেশক মোহাম্মদ কাজল ও ফাহিম বলেন, ‘গোডাউনে চাহিদার চেয়ে মাল কম। কোম্পানি থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই বাজারে দাম বাড়ানো বাধ্যতামূলক।’ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, ‘অতিরিক্ত দামের বোঝা ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে।’ রায়পুর উপজেলা পরিষদের সামনে পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দৈনিক দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা কঠিন হয়ে গেছে।’
ওমেরা ও যমুনা এলপিজির পরিবেশক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওমেরা ও যমুনা কোম্পানির কোনও সংকট নেই। পাইকারি দামে ১৩৮০ থেকে ১৪০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারি দামের চেয়ে বেশি কেনা হচ্ছে।’
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর শহরের ৭ জনকে ৪২ হাজার ও রায়পুর শহরের ৩ জন ব্যাবসায়ীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে আমরা ব্যবস্থা নিই। অভিযোগ পেলে জরিমানা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন, না হলে সিন্ডিকেট ভাঙ্গা কঠিন হবে।’
রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও লুধুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এলপিজি বাজারের অনিয়ম উদ্বেগজনক। সিন্ডিকেট ভাঙতে নিয়মিত অভিযান, কঠোর শাস্তি ও ভোক্তাদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। না হলে নির্ধারিত দাম কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।’
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাছান বলেন, লক্ষ্মীপুরে এলপিজি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরকার নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে এলপিজি-এর সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে সদরে ৭টি মামলায় ৪২ হাজার টাকা এবং রায়পুরে তিন মামলায় ১১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে জেলা প্রশাসনের এই কঠোর তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।